নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৮ নম্বর কুশুম্বা ইউনিয়নের হাজিগোবিন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশের প্লাস্টার খুলে পড়ছে, দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ক্ষতচিহ্ন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেন স্থানীয় রোগী ও তাদের স্বজনরা। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল হাজিগোবিন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিদিন স্থানীয় নারী, শিশু, বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লিনিক ভবনের ছাদের বেশ কয়েকটি স্থানে প্লাস্টার খুলে গেছে। কোথাও কোথাও ছাদের নিচের অংশে ফাটল ও ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে। দেয়ালেও তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্ষত। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে ক্লিনিকে আসা স্বজনরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ক্লিনিকের কর্মরত এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ভবনের ছাদের অনেক জায়গার প্লাস্টার ইতোমধ্যে খুলে পড়েছে। যেকোনো সময় তা রোগী কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিন অনেক শিশু, মা ও বয়স্ক মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ঝুঁকি এড়াতে অনেক সময় বারান্দায় বসেই রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ময়েজ উদ্দিন বলেন, “আমরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসি। কিন্তু ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ধীরে ধীরে এর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ছাদের প্লাস্টার হঠাৎ খুলে পড়ে রোগী কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী আহত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত ক্লিনিক ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্লিনিকের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি তাদের।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। দুর্ঘটনা ঘটার পর সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে আগেই জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার করে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।