দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় গঠিত এ তহবিলের আওতায় কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পর্যন্ত একটি সমন্বিত কৃষিমূল্য শৃঙ্খল গড়ে তুলতে কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বা বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুদ/মুনাফার হার হবে ৭ শতাংশ।
তহবিলের আওতায় একজন গ্রাহক কৃষি উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা, কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তহবিলটির মেয়াদ সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। এর কার্যক্রম রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ, আধুনিক সংরক্ষণাগার, প্রসেসিং শিল্প এবং কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটি অংশ নষ্ট হয় অথবা কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। নতুন এ তহবিলের মাধ্যমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার, বীজ সংরক্ষণাগার, গুদাম, খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার (সাইলো), কোল্ড চেইন লজিস্টিকস, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং রপ্তানিমুখী কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ উদ্যোগের ফলে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে, গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারির পর ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে আগ্রহী ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ব্যবহারের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।