অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, এটিভি সংবাদ
দেশে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য শিক্ষাখাত যা বারবার প্রমাণিত। দুর্নীতি ঘোচাতে নেই কোন প্রতিকার যা তৈরি করে গেছেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার।
আজকের প্রতিবেদনে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা হুগড়া ইউনিয়নের আনুহলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। গত ২৮ আগস্ট টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ্য দীর্ঘদিন যাবৎ আনুহলা উচ্চ বিদ্যালয়ের রেজাল্ট থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সুনামের সাথে চলছিল কিন্তুু বর্তমান প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ যোগদান করার পর থেকেই এই বিদ্যালয়ের দূর্নীতি শুরু হয়।
১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখিত স্কুলে নিয়োগ নেয়। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ বানিজ্য করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই শিক্ষক। তার দুর্নীতিতে সহায়তা করেছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি। বিগত কয়েক বছর হতে এই বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী পদে ১২ লক্ষ টাকা, পিয়ন পদে দুইজন ১২ লক্ষ টাকা, নৈশ্য প্রহরী পদে ৫ লক্ষ টাকা, আয়া পদে ৩ লক্ষ টাকা, ল্যাব সহকারী পদে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে। যা জাতির কাছে ভয়াবহ দুর্নীতির সামিল।
গত ৮ বছরে বিদ্যালয়ের সেশন চার্জের টাকা, পরীক্ষার ফ্রি, বেতন বাবদ তিন কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা আদায় হয়। আদায়কৃত টাকার শতকরা ৪০ ভাগ সাধারণ তহবিলে জমা হয়। বাকি ৬০ ভাগ টাকা হাতে রেখে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতির সহায়তায় প্রধান শিক্ষক ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে। সাধারণ তহবিল হতে পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতির সহায়তায় প্রধান শিক্ষক রেজিষ্ট্রার ব্যবস্থাপনার নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই টাকা উত্তোলন করেছেন।
অতীতে সরকারী উপবৃত্তি যথাযথভাবে প্রদান করা হয়নি। টিউশন ফি, জরিমান আদায় ও সার্টিফিকেট বাবদ টাকা সাধারণ তহবিলে জমা হয় না। তিনি অতীতে বিদ্যালয়ের ভবনের গাইড ওয়াল নির্মাণ প্রকল্প থেকেও ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এলাকাবাসীর দাবী দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের অপসারণ। তাকে অপসারণ করা না হলে বিদ্যালয় ও শিক্ষার মান রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও জানান স্থানীয় সচেতন মহল। এটিভি সংবাদের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার শহীদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে। তিনি এটিভি সংবাদকে বলেন, শিক্ষাখাতে কোন দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ঘটনাটি সঠিক হলে উল্লেখিত ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। বিষয়টি বড়ই লজ্জার এবং শিক্ষাখাতকে ভয়াবহ আকারে ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন, এটিভি সংবাদের সম্পাদক এস এম জামান। তিনি বলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দুর্নীতিবাজদের কাছে বিক্রি না হয়? অনর্থের মূল অর্থ যদি গ্রাস করে শিক্ষাখাত, তাহলে জাতি হবে ধ্বংস আর শিক্ষা যাবে রসাতলে…