যশোর প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ //
প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোর মেডিকেল কলেজ (যমেক)-এর ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, আবার স্থানীয় জনগণও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা ৩ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করছে।
যমেক প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে শংকরপুর হরিণার বিলে ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০০৮ সালে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের মধ্যে ৬ তলা নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১০ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতর শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্যাকাল্টি অনুমোদন দেয়।
ক্যাম্পাস প্রস্তুত না হওয়ায় ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে একাডেমিক ভবন নির্মাণ শেষ হলেও যাতায়াতের সড়ক না থাকায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়নি। পরে ২০১৬ সালের ৩ জুন ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু আজও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হয়নি।
যশোর গণপূর্ত অফিস জানায়, বর্তমানে হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। পাইলিংয়ের কাজ চলছে, যা শেষ হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
যমেক হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান বলেন, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার অন্তত ২০ লাখ মানুষ আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। গত ১৫ বছরে কোনো সরকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, আমাদের হাসপাতালে বেডের চেয়ে কয়েকগুণ রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন বহি:বিভাগে ৫–৬ হাজার রোগী দেখা হয়। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হলে রোগীদের চাপ কমবে এবং সেবা উন্নত হবে।
যমেকের সহকারী অধ্যাপক ডা. আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৩ কিলোমিটার দূরের হাসপাতাল থেকে শিক্ষা নিতে হয়।
পাশ করা ছাত্রী দিশারী ইসলাম বলেন, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল না থাকায় আমরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে সীমিত সময়ের মধ্যে রোগী দেখতাম। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সবসময় শিখতে পারিনি।
যমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবু হাসনাত মোহম্মদ আহসান হাবিব জানান, অর্থ ছাড় না পাওয়ায় বিলম্ব হয়েছে। যশোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সবে কাজ শুরু হয়েছে। পাইলিং চলছে। ২০২৭ সালের আগে সম্পূর্ণ শেষ হওয়া সম্ভব নয়।
এটিভি/যমেক/এম