এই পরিবর্তন মানুষের নৈতিক চেতনায় এক বিপ্লব ঘটায়। প্রতিটি কাজের আগে সে নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে শুরু করে। সে ভাবে, এটাই যদি আমার শেষ দিন হতো, তবে কি আমি এটিই করতাম। যদি এখনই পর্দা নেমে যায়, তবে কি এই দৃশ্য বদলানোর সুযোগ থাকত।”
মৃত্যুর স্মরণ আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে না; বরং তাকে শালীন করে। সম্পর্ককে কমিয়ে দেয় না; গভীর করে তোলে। যে জানে সাক্ষাৎ সীমিত, সে তাকে তুচ্ছ করে না। যে জানে সময় ফিরে আসে না, সে তাকে অপচয়ে নির্দ্বিধা থাকে না। যে বোঝে হিসাব দিতে হবে, সে নিজের প্রবৃত্তিকে লাগামহীন ছেড়ে দেয় না।”
এর বিপরীতে—যে মৃত্যু থেকে গাফেল, সে সর্বদা স্থগিতের মধ্যে বাঁচে। সে ভালো হওয়ার ইচ্ছা রাখে, কিন্তু আজ নয়। দায়িত্ব পালনের ভাবনা রাখে, কিন্তু এখনই নয়। ফিরে আসার সংকল্প করে, কিন্তু একটু পরে। তার পুরো নৈতিকতা দাঁড়িয়ে থাকে ‘পরে’ নামক ভরসার ওপর, অথচ ‘পরে’ বলে কোনো নিশ্চয়তা তার হাতে নেই।
অস্তিত্বগত সত্য হলো মৃত্যুই জীবনকে ওজন দেয়। এই সীমাবদ্ধতাই মুহূর্তকে মূল্যবান করে তোলে। এই ক্ষয়ই দায়িত্ববোধের জন্ম দেয়। মানুষ যদি চিরকাল বেঁচে থাকত, তবে হয়তো কোনো সিদ্ধান্তই জরুরি মনে হতো না, কোনো নেক কাজ অপরিহার্য লাগত না, কোনো জুলুম বিপজ্জনক মনে হতো না। পরিণতিই কাজকে অর্থ দেয়।
আসল ট্র্যাজেডি মৃত্যু নয়। আসল ট্র্যাজেডি হলো মানুষ এমনভাবে মারা যায়, যেন সে কখনো মৃত্যুর সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই দেখেনি। আপনি যখন পরবর্তী পরিকল্পনা করবেন, যখন আপনার শ্রমের দিক নির্ধারণ করবেন, যখন আপনার স্বপ্ন নির্মাণ করবেন, তখন একটি সত্যকে চিন্তার কেন্দ্রে রাখুন। এসব কিছু হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যেতে পারে। আর এর পরও আমি থেকে যাব, আমার কাজগুলো নিয়ে।
তারপর দেখবেন, আপনার অগ্রাধিকারগুলো কিভাবে বদলে যায়। যেসব বিষয়ের জন্য আপনি জীবন বাজি রাখতেন, সেগুলো অপ্রয়োজনীয় মনে হবে। আর যেসব কাজ আপনি বারবার পিছিয়ে দিচ্ছিলেন, সেগুলো তৎক্ষণাৎ জরুরি হয়ে উঠবে। মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল ভবিষ্যৎ গড়া নয়, ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে মৃত্যুকে উপেক্ষা করা।