ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রবীর চৌধুরী রিপন, এটিভি সংবাদ //
বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) কে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা। একাধিক ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ মার্চ ২০২৬ জেলা বিএনপির পূর্বনির্ধারিত ইফতার মাহফিলের দিনেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন বিদায়ী ডিসি। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই তারিখ জানানো হলেও একই দিনে প্রশাসনিক আয়োজন করায় শহরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওই ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দাওয়াত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দেয়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ঈদের প্রধান জামাতে নামাজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন ইমামকে। এতে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনেও প্রশ্ন ওঠে নিরপেক্ষতা নিয়ে।
বিদায়ী ডিসির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি ও অন্যান্য সরকারি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এতে করে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আরও জোরালো হয়।
গত ২৫ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এ বিষয়ে লিখিতভাবে ডিসির কাছে আবেদন করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিকার না করে বিদায়ী ডিসি উল্টো ‘ফ্যাসিবাদী কোথায় খুঁজে পাবেন’ এমন প্রশ্ন তোলেন বলে জানা যায়।
এরপর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু সাংবাদিকের হাতে উপস্থাপনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এদিকে গত ২৫ মার্চ জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এটিভি সংবাদ ডটকমে প্রকাশিত শিরোনাম “ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফ্যাসিবাদ ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক” প্রতিবেদন পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সবশেষে, ২৯ মার্চ ২০২৬ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়। এই বদলিকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।
তবে এ বিষয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসকের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।