মোঃ জুনাইদ মিয়া।মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি//
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন স্ত্রী রিতা রুদ্র পাল। এ সময় তাদের ছেলে মাকে রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারেনি। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী মিন্টু রুদ্র পাল নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মিন্টু রুদ্র পাল ও তার স্ত্রী রিতা রুদ্র পালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মিন্টু রুদ্র পাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী রিতা রুদ্র পালের গলায় আঘাত করেন।
হামলার শিকার হয়ে রিতা রুদ্র পাল ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের ওপর এমন নির্মম হামলা দেখে তাদের ছেলে ছুটে এসে তাকে রক্ষার চেষ্টা করে এবং বাবাকে থামানোর জন্য আকুতি জানায়। কিন্তু তার সেই অসহায় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মুহূর্তেই একটি পরিবারের সুখ-শান্তি রক্তাক্ত ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়।
ঘটনার পর গোবিন্দপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক কলহের ঘটনা থাকলেও এমন ভয়াবহ পরিণতির কথা কেউ কল্পনাও করেননি। নিহত রিতার মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর পালিয়ে না গিয়ে অভিযুক্ত মিন্টু রুদ্র পাল নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
জুড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত মিন্টু রুদ্র পালকে আজ আদালতে হাজির করা হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধন মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অধ্যায়ে পরিণত হওয়ার এই ঘটনা জুড়ীবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে মায়ের জীবন বাঁচাতে সন্তানের ব্যর্থ ও অসহায় প্রচেষ্টা উপস্থিত সবার হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। গোবিন্দপুরের বাতাসে আজও যেন ভেসে বেড়াচ্ছে একটি পরিবারের অপূরণীয় শোকের দীর্ঘশ্বাস।