সত্যম চক্রবর্তী। দুর্গাপুর, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে মাদক, ইভটিজিং, জুয়া, চুরি, বাল্যবিয়ে ও চোরাচালান প্রতিরোধে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গাপুর থানার আয়োজনে সুসঙ্গ আদর্শ বিদ্যানিকেতন স্কুল প্রাঙ্গণে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক সভায় শিক্ষার্থীদের অপরাধ থেকে দূরে থাকা, পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। সুসঙ্গ আদর্শ বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এবং দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিজস্ব ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে বক্তব্য রাখে শিক্ষার্থী মাহির অপূর্ব বায়াত।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, মানুষের ভেতরে নানা ধরনের সুপ্ত প্রতিভা থাকে। কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা, প্রশাসক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী কিংবা উদ্যোক্তা হতে পারেন। তবে জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তিনি এপিজে আব্দুল কালামের বিখ্যাত বাণী স্মরণ করে বলেন, “স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখি, স্বপ্ন হচ্ছে সেটাই যা আমাদের ঘুমোতে দেয় না।” এমন স্বপ্ন দেখতে হবে যা নিয়মিত নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায় এবং তা বাস্তবায়নে প্রতিদিন প্রস্তুতি নিতে হয়।
মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি তরুণ প্রজন্মকে এসব থেকে দূরে থাকার কঠোর বার্তা দেন। তিনি জানান, এই বয়সে অপরাধে জড়ালে পুরো ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়। তাই মেধা ও শক্তিকে সৃজনশীল ও ভালো কাজে লাগাতে হবে।
ইভটিজিং ও অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কোনো শিক্ষার্থী ইভটিজিংয়ের শিকার হলে ভয় না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক, অভিভাবক ও পুলিশকে জানাতে হবে। অপরাধীর কোনো ছাড় নেই; অপরাধীর একটাই পরিচয়—সে অপরাধী। যেকোনো মূল্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া ইভটিজিংপ্রবণ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।
সভা শেষে পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের একটি দায়িত্বশীল, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।