ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে নেপাল বিপর্যয়ের দায় এড়াল চীন। বেইজিং সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দোষারোপ করে লাভ নেই। তাহলে কি এবার চীন-কাঠমাণ্ডু সম্পর্কে চিড় ধরল? এই প্রশ্নটাই এখন জোরালো হচ্ছে। গতকাল বুধবার ভয়াবহ এই দুর্যোগের পরই চীনের দিকে আঙুল তোলে নেপাল। তারা দাবি করে, চীনের একটি একটি বাঁধ ভেঙে পড়ার ফলে আকস্মিক এই বন্যা পরিস্থিতি। বিপদ বুঝেও কাঠমাণ্ডুকে সতর্ক করেনি বেইজিং।
নেপালের সব দাবি নাকোচ করে দেয় বেইজিং।
পাশাপাশি, এধরনের খবরকে ‘ভুয়া’ বলেও অভিহিত করে প্রতিবেশী দেশটি।
নেপালের চীনা দূতাবাস সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে লিখেছে, ‘বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয় নেপালের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে। গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালে ভূমিকম্প অথবা হিমবাহ ধসের ধসের ঘটনা ঘটে। এর ফলে কাদা ধস সৃষ্টি হয়। সেই কারণেই গিরং-রাসুয়াগাধি সীমান্ত অঞ্চলের নেপাল ও চীনে প্রাণহানির এবং নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।
বেইজিং জানিয়েছে, দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। সহযোগিতাই জীবন বাঁচায়। এদিকে ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, বুধবার ভোরে কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার উত্তরে নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। কিন্তু পরে তারা তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায়, এই কম্পন ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট নয়। এটি হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.২।
সংস্থাটি জানিয়েছে, নিকটবর্তী ভূ-কম্পন পরিমাপক কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য, ভূ-কম্পন তরঙ্গ এবং প্রাপ্ত উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর নিচের দিকে নেমে আসে এবং আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। এর জেরেই উপত্যকার নিচের জনবসতিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরাও এই বন্যার নেপথ্য কারণ হিসাবে হিমবাহ ধসকেই দায়ী করছে।