বান্দরবানের থানচি উপজেলায় শঙ্খ নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই মজুত ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে রাতের আঁধারে নিয়মিত ট্রাকে করে বালু পাচার করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে শঙ্খ নদী থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়। সেই বালু থানচি ডিগ্রি কলেজের পাশের একটি খোলা স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়। দিনের বেলায় কোনো তৎপরতা না থাকলেও সন্ধ্যা নামার পরই শুরু হয় বালু বোঝাইয়ের কার্যক্রম। প্রতিদিন রাতের বেলায় তিন থেকে চারটি ট্রাকে করে বালু বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাতভর চলা ভারী ট্রাকের বিকট শব্দে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন থানচি কলেজ হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিজ্ঞানী মংসানু পাড়া এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার এবং ইউনিয়ন পরিষদের অন্তত ২০টি ভাড়াটিয়া পরিবার শব্দ দূষণের কারণে রাতে ঘুমাতে পারছেন না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই শব্দ দূষণে শিশুদের মধ্যে মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।
ট্রাকচালক মো. সেলিম ও আবদুল রফিক জানান, চারটি ট্রাক টানা কয়েকদিন ধরে বালু পরিবহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তারা বলেন, থানচি-লিটক্রে সড়ক হয়ে বালু বংকো পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ইয়হ্লাচিং মারমা (৬৫) বলেন, “কয়েকদিন ধরে রাতে ঘুমাতে পারছি না। নাতি-নাতনিরাও অসুস্থ হয়ে পড়েছে, কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।”
থানচি কলেজের শিক্ষার্থী মেসাইনু মারমা ও রিংচয়ন ম্রো জানান, রাতের শব্দে ঘুম না হওয়ায় তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, আগের বছর উত্তোলিত বালু বিক্রি না হওয়ায় এবার তা বিক্রি করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, বালু স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধ বালুর স্তূপ ও রাতের ট্রাক চলাচল অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ বালু অপসারণ, রাতের ট্রাক চলাচল বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।