গাইবান্ধায় মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন (কাজী অফিস) নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি নথিপত্রের জাল-জালিয়াতির অভিযোগ প্রায়শই পাওয়া যায়। যা আইন ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে।
বাল্যবিবাহ থেকে শুরু করে কাবিননামায় ভেজাল এবং অতিরিক্ত টাকা খেয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে গাইবান্ধার কিছু কাজী সাধারণ মানুষের কাছে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এদর মধ্যে অনেকেই নেই সরকারি লাইসেন্স ।। গাইবান্ধায় অনেক নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, এ ধরনের কাজীর অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রিি করে মামলা মোকদ্দমায় পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
এই সব কাজীর বিভিন্ন ভাবে জেলার ও জেলার বাহিরে অন্যান্য জেলার বই ছাপা কারখানা থেকে নকল বিবাহ রেজিস্ট্রার ও নকল তালাক রেজিস্ট্রার বই অর্থের বিনিময়ে ছাপিয়ে নিয়ে বিয়ের ও তালাক রেজিস্ট্রির জাল-জালিয়াতি করে আসছে ও গাইবান্ধার সহজ সরল মানুষ দের সাথে প্রতারণা করছে ।
গত চার মে এই রকমই একটি নথিপত্রের জাল-জালিয়াতির লিখত অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা পৌর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের এর কজী মাঃ আব্দুল গোফ্ফার আকন্দের বিরুদ্ধে । এই অভিযোগ পেক্ষিতে বাংলাদেশ অনেক গুলো বহুল প্রচলিত নিউজ প্রটাল কাজী বিরুদ্ধে ফলাও করে নিউজ প্রচার করে।
লিখিত অভিযোগ টি করেন গাইবান্ধা বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মোঃ সোলাইমানি সরকার এর কন্যা মোছাঃ রিক্তা আক্তার শিখা সাং কোমরপুর গাইবান্ধা সদর গাইবান্ধা ।
অভিযোগ টি আমলে নিয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ তদন্তের করে গোফ্ফার কাজী ও অভিযোগ কারির স্বামী মোঃ শরিফ আল কামাল এর বিরুদ্ধে ১৪/৫/২০২৬ ইং তারিখে একটি মামলা রুজু করেন।
লিখিত এজাহারে মোছাঃ রিক্তা আক্তার শিখা বলেন যে,
আসামী মোঃ গোফ্ফার কাজী (৬০) পিতা: অজ্ঞাত
সাং ডেভিড কোম্পানি পাড়া থানা ও জেলা গাইবান্ধা বিরূদ্ধে এজাহার দায়ের করিতেছি যে আসামী গোফ্ফার কাজী একজন প্রতারক। গাইবান্ধা পৌরসভার ডেভিড কোম্পানি পাড়ায় তার আফিস রয়েছে। গত ০১/০৪/২০২৬ ইং তারিখে বিকেল আনুমানিক ০৫:০০ ঘটিকায় সময় আসামি গোফ্ফার কাজী অফিসে অত্র থানাধীন বোয়ালী ইউনিয়নের নশরৎপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল হালিম খন্দকারের এক মাত্র ছেল মোঃ শরিফ আল কামাল এর সাথে (দশ লক্ষ টাকা) দেনমোহরানা ধার্য করে সাক্ষীদের সম্মুখে মুসলিম শরা – শরীয়াত মোতাবেক রেজি: কৃত বিবাহ হয়। বিবাহের পর উক্ত বিবাহের কাবিননামার কপি ২/৩ দিনের মধ্যে প্রদান করার কথা থাকলেও । পরবর্তীতে আসামী গোফ্ফার কাজী আমাদের বিবাহের কাবিননামা প্রদান না করিয়া আজ কাল দেয় দিচ্ছি বলিয়া সময় ক্ষেপন করিতে থাকে ।পরবর্তীতে ০৩/০৫/২০২৬ ইং তারিখে পৌর প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করি এবং উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাইবান্ধা পৌর প্রশাসক মহোদয় আসামীর কাছে কাবিননামার বই উপস্থাপন করিবার বলিলে আসামি একটি ভুয়া (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকার কাবিননামা প্রদান করেন । আমি কাবিননামাটিকে ভূয়া বলে বলিয়া দাবী করলে আসামী ভয়-ভীতি এবং হুমকি প্রদর্শন করিয়া তাড়াইয়া দেয় ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গোফ্ফার কাজী তার স্বামীর কাছে মোটা আংকের টাকা ঘুষ খেয়ে তার বিবাহের দেনমোহরানা দশ লক্ষ টাকার কাবিননামার স্থলে, এক লক্ষ দশ হাজার টাকার কাবিননাম প্রদান করিয়া আমার সাথে প্রতারণা করেছে।
স্থানীয় দের সাথে কথা বলে যানা যায় যে, এই গোফ্ফার কাজীর বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে অনেক বার জেলে গেছে কিন্তু সে তার অবৈধ কাজ বন্ধ করেন নাই।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠো ফোনে বলেন, আমরা আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।