চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে জাল পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) তৈরি করে বহিরাগতদের প্রবেশের চেষ্টা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ইংরেজি বিভাগের এক ভুয়া শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি ‘মোহাম্মদ ওমর ফারুক’ (আইডি নং- ২৩২০২০৫৫) নামে ইংরেজি বিভাগের একটি ভুয়া আইডি কার্ডসহ এক যুবককে শনাক্ত করা হয়। কার্ডটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও বিভাগ ব্যবহার করা হলেও যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায় এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ চেষ্টার ফলে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিচয় আড়াল করে ক্যাম্পাসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যেই মূলত একটি চক্র এ ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি এবং পরিচয়পত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আইডি কার্ড জালিয়াতি করে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সচেতন শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপত্তা রক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে যারা অনুপ্রবেশ করছে, তাদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইডি কার্ড জালিয়াতি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ও আইনি—উভয় ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর অফিস বা দায়িত্বরত নিরাপত্তা রক্ষীদের অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।