আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক//
সাদুল্লাপুর উপজেলার মৎস্য সম্পদের অন্যতম ভাণ্ডার ও জীববৈচিত্র্যের প্রাণকেন্দ্র ‘হাজিরছড়া মৎস্য অভয়াশ্রম’ চরম অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে কমছে মাছের উৎপাদন। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া হলে এই অভয়াশ্রম তার ঐতিহ্য ও কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলবে।
হাজিরছড়া এলাকার স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পলিসহ কচুরিপানা জমে অভয়াশ্রমের জলাশয় ভরাট হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ জেলে রহিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “আগে এই বিলে দেশি মাগুর, শিং, কৈ, পাবদাসহ নানা প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন জলাশয়ে গভীরতা না থাকায় এবং চারপাশের অবৈধ দখল ও কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি প্রায় বন্ধের পথে। আমরা অভয়াশ্রমটি দ্রুত খনন ও সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
হাজিরছড়া বিলের সার্বিক পরিস্থিতি ও সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সাদুল্লাপুরে মোট ২টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে, যার মধ্যে হাজিরছড়া বিল অন্যতম।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুমিতা খাতুন জানান, “হাজিরছড়া মৎস্য অভয়াশ্রম সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে বিল খনন, কচুরিপানা পরিষ্কার এবং অভয়াশ্রমের সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মতে, দ্রুত এই অভয়াশ্রমটি সংস্কার করা না হলে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে, তেমনি চরম সংকটে পড়বেন এলাকার হাজারো প্রান্তিক জেলে।