মামুন হোসেন, পিরোজপুর, এটিভি সংবাদ
পিরোজপুরে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর জখম লালন ফকির (২৭) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাতেই পিরোজপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরা।
নিহত লালন উপজেলার ডুমুরিতলা গ্রামের গ্রামের হান্নান ফকিরের ছেলে।
শনিবার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীসভা থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে জখম করে মৃত ভেবে ডোবার মধ্যে ফেলে রাখে।
লালনের মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজমীর হোসেন মাঝি।

তিনি জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার শারিকতলা ইউনিয়নের কুমিরমরা ফেরিঘাট থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই এলাকার রশিদ শেখ এর ছেলে বাবু শেখ এর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল লালনকে ধাওয়া করে। এরপর সেখানে থেকে দৌড়ে পালানোর সময় হামলাকারীরা লালনকে আটক করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যপুরি কুপিয়ে তার হাত ও পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর তাকে মৃত ভেবে পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরবর্তীতে লালনের বন্ধুরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে রোববার ঢাকায় নেওয়া হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লালনের দুই পা ও দুই হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশত কোপের আঘাত রয়েছে। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাতে পিরোজপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী একে এম এ আউয়ালের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা পিরোজপুর-১ আসনের নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। লালন পিরোজপুর- ১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আ’লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল এর সমর্থক ছিলেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত হামলাকারী বাবু একই আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম এর সমর্থক।
নিহত লালনের বাবা হান্নান ফকির বলেন, ‘রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডুমুরিতলার বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল লালন। নিজ বাড়ির সামনে আসামাত্রই একই এলাকার সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মো. বাবু শেখ লোকজন নিয়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে লালনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে লালনের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে পিরোজপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহন করা হবে।