এস এম জামান, এটিভি সংবাদ //
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে ‘হত্যা মিশনে’ অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকে এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন। চানখাঁরপুলে স্কুলছাত্র আনাসসহ সাতজনকে হত্যায় জড়িত কর্মকর্তারা মামলার আসামি হলেও তাদের এখনো গ্রেফতার করেনি পুলিশ। মাঠে কিলিং বাস্তবায়নকারী রমনা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে সিলেটে বদলি করা হলে নতুন কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক ও বর্তমান ৯৫২ পুলিশ সদস্য আসামি হলেও মাত্র ২৮ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের বয়স সাত মাস হতে চললেও গণহত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন? গোটা বিষয়টি হতাশাজনক!
এ বিষয়ে শহিদ পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ‘পুলিশ লীগের’ জড়িত কর্মকর্তা ও সদস্যদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা আরও বলেছেন, এখনই গ্রেফতার করা না হলে বাকিরাও আত্মগোপনে বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে! চাকরিতে বহাল থাকলে জুলাই হত্যা মামলায় জড়িত অপরাধীদের রক্ষায় অপচেষ্টা চালাবেন তারা। গণহত্যায় ‘হুকুমদাতা’ ও ‘সরাসরি জড়িত’ পুলিশ কর্মকর্তাসহ জড়িত সকল সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। তার পলায়নের বিষয়টি জানার পরও সুবিধাভোগী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের তাণ্ডব এখনো থামেনি চানখাঁরপুলে। ওইদিন দুপুরের দিকে এডিসি আখতারের নির্দেশে গুলি চালানো হয় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর। এতে স্কুলছাত্র আনাসসহ ঘটনাস্থলেই শহিদ হন সাতজন। বস্তুত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের বিষয়টি জানার পরও সুবিধাভোগী বহু পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনের নামে সারাদেশে নির্বিচার হতাকাণ্ডে মেতে উঠেছিল পুলিশ বাহিনীর বহু সদস্য।
জাতীয় জীবনে গর্ব করার মতো অবদান রেখেছে বাংলাদেশের পুলিশ। এ বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণ রুখে দিয়ে গড়ে তুলেছিল সশস্ত্র প্রতিরোধ। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হয়ে উঠেছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী।
উল্লেখিত সময়ে অপরাধে জড়িত পুলিশ বাহিনীর যে সকল সদস্য সরাসরিভাবে জড়িত ছিলেন তাদেরকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ বিচার প্রত্যাশা করছেন, দেশের সর্বস্তরের জনগণ।
সম্পাদকীয়/এটিভি০১/১২০৩/জেড