বিশেষ প্রতিবেদক, এটিভি সংবাদ //
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এটিভি সংবাদ ডটকম’র সম্পাদক এস এম জামান।
এটিভি সম্পাদক বলেন, গোপালগঞ্জে নিহত চারজনের মৃত্যুর দায় অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারেন না। একই সঙ্গে এনসিপি’র নেতা–কর্মীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবিও জানিয়েছেন সম্পাদক।
এস এম জামান বলেন, অবিলম্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করতে হবে। এনসিপি’র নেতা ও সমর্থকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবিও জানান এটিভি সম্পাদক।
সম্পাদক আরো বলেন, জনসাধারণের ওপর বল প্রয়োগ, গুলি চালানো ও প্রাণহানির মত ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও সংবিধান উভয়ের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক পরিসর, মানবাধিকারের মূল্যবোধ এবং নাগরিক নিরাপত্তার প্রতি একধরনের হুমকি স্বরূপ। নাগরিকের জীবন রক্ষা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। গোপালগঞ্জের ঘটনায় রাষ্ট্র সে দায়িত্ব পালনে কার্যত ব্যর্থ হয়েছেন, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগ ও গুলির ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সম্পাদক বলেন, মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার বাংলাদেশের সংবিধানে নিশ্চিত এক মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো এই অধিকার সুরক্ষা করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সময়ে উত্তেজনা প্রশমন ও মানুষের জীবন রক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং গুলির শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যাওয়ার কথা উল্লেখ করে এটিভি সম্পাদক বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক গণমাধ্যমে বলেছেন পুলিশ মারণাস্ত্র ব্যবহার করেনি। তাহলে এই আগ্নেয়াস্ত্র কারা ব্যবহার করলো? বিষয়টি গোটা জাতিকে ভাবিয়ে তুলছে। এ বিষয়টির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া না হলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, ভয় ও প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা আরো বাড়বে বলেও মন্তব্য এটিভি সম্পাদকের।
বর্তমানে দেশে স্থিতিশীলতা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন এস এম জামান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এটিভি সম্পাদক বলেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী সময়ে যেন কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানি বা সহিংসতার শিকার না হন এবং নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করার জোর দাবিও জানিয়েছেন সম্পাদক এস এম জামান।
এটিভি/সম্পাদক/মানবাধিকার লঙ্ঘন