পুলিশ জানায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর হত্যার দায় স্বীকার করেন আয়েশা।
গ্রেপ্তারের সময় আয়েশার থেকে ৬ ভরি স্বর্ণ, একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন ও হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদিকে নলছিটি থানার ওসি আশরাফ আলী বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই আসামি আয়েশাকে নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এডিসি মোহাম্মাদ জুয়েল রানা জানান, ক্লু-লেস এই জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে ৬ মাস আগে মোহাম্মাদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার একটি বাসায় চুরিও করেছিলেন আয়েশা।
তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মোহাম্মাদ জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথমে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে আয়েশার স্বামীকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নলছিটি থেকে হাতেনাতে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আয়েশা বলেছে, কাজের পর আয়েশা যখন বাসা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন; তখন গৃহকর্ত্রী তাকে চুরি করার অভিযোগে দিয়ে আটকায় এবং তল্লাশীর চেষ্টা করেন। সে সময় হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়েশা কোপ দেয়। এ সময় গৃহকর্তীর চিৎকার শুনে তার মেয়ে ছুটে আসলে তাকেও একই অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে আয়েশা।
এর আগে গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী স্কুলশিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম।
এটিভি সংবাদ// এস এম