বাংলাদেশে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও ঝুঁকি গ্রহণের অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সরকার এক্সপ্লোরেশনে ঝুঁকি নিতে ভয় পেয়েছে, ফলে গত ৩০ থেকে ৪০ বছরে যে পরিমাণ বিনিয়োগ ও অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি।’
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আইইবি ভবনের বিইআরসির সভাকক্ষে ‘ডিএসটি’ নিয়ে এক কর্মশালায় বিইআরসির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) সদস্যদের জন্য কর্মশালাটি আয়োজন করে বিইআরসি।
জালাল আহমেদ বলেন, ‘বিশেষ করে এক্সটেনসিভ সিসমিক সার্ভে না করাই বড় ঘাটতি। যদি আমরা ব্যাপকভাবে সিসমিক সার্ভে করতে পারতাম, তাহলে তার ভিত্তিতে পরিকল্পিত এক্সপ্লোরেশন করা যেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আমরা সেই জায়গাটায় দুর্বল থেকেছি।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘গ্যাস পাওয়ার পর তার পরিমাণ ও উৎপাদনযোগ্যতা যাচাই করতে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) বা ধাপে ধাপে টেস্টিং করা হয়। একই পদ্ধতিতে তেল ও গ্যাস—উভয়ের ক্ষেত্রেই পরীক্ষা চালানো হয়। অতীতে বিভিন্ন কূপে তেল ও গ্যাসের উপস্থিতি মিললেও সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তবে এসব তথ্য ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।’
বিশেষ করে সিলেট বেল্ট এলাকায় গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই কনডেনসেট থেকে এলপিজির মতো মূল্যবান পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে আমরা কনডেনসেট থেকে এলপিজি উৎপাদন করছি। তাই সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধাপে ধাপে পরীক্ষার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্যাস ও তেলের সম্ভাবনা যাচাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
এটিভি/এসএম/অনুসন্ধান