অনলাইন ডেস্ক, এটিভি সংবাদ //
দেশে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তাদের মৌলিক অধিকার অনেকাংশেই নিশ্চিত হবে।’
‘ন্যায্য মজুরি: অধিকার ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভায় আলোচকরা এ কথা বলেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যায্য মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মজুরির সামঞ্জস্য এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সদ্য প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভার মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক সংগঠন হিসেবে পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থার সাংগঠনিক যাত্রার প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়। সভায় বিভিন্ন কারখানা থেকে আগত শ্রমিক প্রতিনিধি, ইউনিয়ন নেতা, শ্রম অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থার প্রচার সম্পাদক বৈশাখী আক্তার জলি।
মূল প্রবন্ধে তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যমান মজুরি কাঠামো, ন্যূনতম মজুরির বাস্তবতা, মজুরিবৈষম্য, সময়মতো মজুরি ও ওভারটাইম পরিশোধ, উৎপাদন টার্গেট বৃদ্ধি এবং মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ট্রেড ইউনিয়নের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো উঠে আসে।
প্রবন্ধ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঘোষিত ১২ হাজার ৫০০ টাকার ন্যূনতম মজুরি বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মজুরি বাড়লেও অধিকাংশ শ্রমিকের বাড়িভাড়া, পরিবহন ও খাদ্য ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ওভারটাইম কমে যাওয়ায় মোট আয় কমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় নতুন মজুরি বাস্তবায়নে বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
আলোচনা সভায় ২০২৫ সালের শ্রম আইন (সংস্কার) অর্ডিন্যান্সের আলোকে প্রোভিডেন্ট ফান্ড, সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’, গ্রাচুয়িটি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিধানগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, ন্যায্য মজুরি কোনো দয়া নয়, এটি শ্রমিকের অধিকার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই ও স্থিতিশীল পোশাক শিল্প গঠনের পূর্বশর্ত।অনুষ্ঠানে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বাংলাদেশ লেবার স্টাডিজের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ বলেন, যে শ্রমিক যখন মত প্রকাশ করার দক্ষতা অর্জন করে, তখন তা শিল্প সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শ্রমিক জনকল্যাণ সংস্থা শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরো বলেন, অনেক শ্রমিককেই নিজের সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসতে হয়। যে বেতন পায় তা দিয়ে হয়তো সন্তানের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে কিন্তু সেই সন্তান রাখবে কোথায় সেই জায়গাই তো নেই।
এই অবস্থায় একজন শ্রমিক থেকে উৎপাদনশীলতা আমরা কিভাবে পাব?সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, শ্রম আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতে বাধ্যতামূলক ভবিষ্যৎ তহবিল প্রবর্তন এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধা ১১২ দিন থেকে ১২০ দিন বৃদ্ধি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে এই সংস্কারগুলো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পর্যাপ্ত মজুরির অভাবে, ভবিষ্য তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সুবিধা গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন গর্ভবতী শ্রমিকদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী নাজমা আক্তার বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিক কাজ করছে। এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকদের ন্যায্যতম যে মজুরি সেটা নিশ্চিত হলে, শ্রমিকদের যেসব মৌলিক অধিকার রয়েছে তা অনেকাংশে নিশ্চিত হবে বলে আশা করি।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, বিকেএমইয়ের পরিচালক মো. বেলায়েত হোসেন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. তাইমুম ইসলাম প্রমুখ।
এটিভি/এসএম/জাতীয়