গত বছরের ১৮ জুলাই রক্তিম কেফিয়া আবৃত সেই মুখপাত্রের একটি কণ্ঠস্বর মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেদিন তিনি অত্যন্ত বেদনাভরে বলেছিলেন, “হে এই উম্মাহর নেতারা, ওলামায়ে কেরাম… মহান আল্লাহর দরবারে আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ। আপনারা প্রতিটি এতিম শিশুর, প্রতিটি সন্তানহারা মায়ের, অনাহারী মানুষের প্রতিপক্ষ।” গাজার সেই আর্তনাদ আজ বাংলাদেশের দুয়ারে এক কঠিন নৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গাজায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘মার্কিন চক্রান্তের’ অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সেখানে পাঠানোর পাঁয়তারা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই বাহিনীকে কি শেষ পর্যন্ত মজলুমের বিপক্ষে দাঁড় করানোর নীল নকশা চূড়ান্ত হচ্ছে?
একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের পথে?
পোস্টার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যানুযায়ী, গাজার পবিত্র ভূমিতে দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে দেশীয় সেনা পাঠানোর যে প্রক্রিয়া চলছে, তা দেশের আপামর জনসাধারণের ইচ্ছার চরম পরিপন্থী। বাংলাদেশ সবসময়ই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার থেকেছে। এমন অবস্থায় গাজায় কোনো ধরনের ‘শান্তি রক্ষা’ বা ‘নিরাপত্তা’র নামে সেনা পাঠানো—যা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা করবে—তা হবে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
আমরা কার পক্ষে?
একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমাদের ভাবনার বিষয় হলো, কিয়ামতের কঠিন দিনে আমরা কার সাথে দাঁড়াব? গাজার সেই বাস্তুচ্যুত শিশু, গৃহহীন মা এবং আল্লাহর পথে সংগ্রামরত মুজাহিদদের বিপক্ষে গিয়ে কি আমরা আল্লাহর কাছে ওজর পেশ করতে পারব? পবিত্র ভূমির মুমিনদের প্রতিপক্ষ হওয়া মানে খোদ স্রষ্টার ক্রোধের মুখোমুখি হওয়া।
ওজর পেশ করার এখনই সময়
আজ রাষ্ট্রযন্ত্র যদি কোনো ভুল পথে পা বাড়ায়, তবে নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে প্রতিবাদ জানানোর। আমরা যদি আজ চুপ থাকি, তবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে আমাদের অবস্থান হবে সেই বিট্রেয়ারদের সাথে, যারা ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে উম্মাহর আমানতকে সওদা করেছে।
আজ (শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাদ জুমা যে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। বরং এটি মহান আল্লাহর দরবারে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করার এবং মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানোর একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। যাতে অন্তত বিচার দিবসে আমরা বলতে পারি, “হে আল্লাহ, আমরা এই অন্যায়ের অংশ ছিলাম না।”
আল্লাহ আমাদের এই তাগুতি ব্যবস্থা থেকে মুক্তির পথ করে দিন এবং আমাদের অক্ষমতা ক্ষমা করুন।