খাদ্যআঁশ বা ফাইবার এমন একটি খাদ্য উপাদান, যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে সক্রিয়ভাবে শক্তিশালী করে এবং ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’—অর্থাৎ অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা দীর্ঘদিন থাকে বলে জানিয়েছে নতুন গবেষণা।
অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোয়েট ইনস্টিটিউটের গাট মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক কারেন স্কটের মতে, মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ানো জরুরি। অন্যদিকে, ফাইবারের ঘাটতি অসুস্থতার একটি বড় কারণ হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে।
স্কট ব্যাখ্যা করেন, উচ্চ-আঁশযুক্ত খাদ্য মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে এখন মনে করা হচ্ছে। আঁশ হজমের সময় অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে যে ফ্যাটি এসিড বিউটিরেট তৈরি হয়।
২০২২ সালের একটি গবেষণায় ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে দেখা যায়, যাদের আঁশ গ্রহণের পরিমাণ বেশি ছিল, তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
যদিও এই ফলাফলগুলোতে দেখা যায়, সাম্প্রতিক এক র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়ালে যমজদের ওপর গবেষণায় আঁশ ও জ্ঞানীয় ক্ষমতার মধ্যে কারণ-প্রভাব সম্পর্কও ইঙ্গিত করা হয়েছে। যারা প্রতিদিন প্রোবায়োটিক আঁশের সাপ্লিমেন্ট নিয়েছিলেন, তিন মাস পর তাদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা প্লাসেবো নেওয়াদের তুলনায় ভালো হয়। প্রোবায়োটিক হলো এমন সরল আঁশ, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মল নমুনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সাপ্লিমেন্ট অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন এনেছে এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়াম-এর মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে।
গবেষণাটির পরিচালক ও কিংস কলেজ লন্ডনের জেরিয়াট্রিক মেডিসিনের ক্লিনিক্যাল লেকচারার মেরি নিই লকলিন বলেন, ‘বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে খাদ্যকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা এখানে দেখা যাচ্ছে। মাইক্রোবায়োমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি পরিবর্তনযোগ্য এবং কিছু নির্দিষ্ট জীবাণু স্বাস্থ্যের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে যুক্ত।’
তিনি আরো জানান, বার্ধক্যজনিত জ্ঞানীয় ও শারীরিক অবনতির ক্ষেত্রে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে তিনি আগ্রহী। ‘এটি এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি—এমন একটি ক্ষেত্র, যেখান থেকে আমরা দ্রুত নতুন জ্ঞান পাচ্ছি। ভবিষ্যতে এটি বার্ধক্যকে আরো সহজ করে তুলতে পারে।’
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বিউটিরেট উৎপাদন বেশি হলে তা বিষণ্নতা কমাতে, ঘুমের উন্নতি করতে এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিউটিরেট উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধির সঙ্গেও যুক্ত। পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া স্কটের দল সম্প্রতি দেখতে পেয়েছে, আলঝাইমার রোগীদের মল নমুনায় প্রদাহজনিত সূচক বেশি ছিল, আর বিউটিরেট উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ও বিউটিরেটের পরিমাণ কম ছিল।
স্কট বলেন, ‘এটি বিউটিরেট ও মস্তিষ্কের সংযোগের ধারণাকে আরো জোরদার করে।’ যদিও এটিও সম্পর্কভিত্তিক গবেষণা, তবুও এটি সমর্থন করে যে, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার পরিবর্তন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।