নদী বিচ্ছিন্ন দুই জনপদকে এক সুতোয় বাঁধতে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে গাইবান্ধার বালাসী ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে একটি স্থায়ী সেতু এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ সাশ্রয় করতে এই সেতুটি হতে পারে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম একমাত্র মাধ্যম। যমুনার কড়াল গ্রাসে বারবার থমকে যাওয়া এই জনপদের মানুষ এখন একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের আশায় প্রহর গুনছে। উত্তরবঙ্গ দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের কৃষিপণ্য রাজধানীসহ সারা দেশে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য এই সেতুটি যথেষ্ট অবদান রাখবে। বর্তমানে নৌকা পারাপারে দীর্ঘ সময় ও পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেতুটি নির্মিত হলে পরিবহন খরচ এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসবে এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব যানবাহন বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু (যমুনা সেতু) ব্যবহার করে। বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মিত হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য একটি বিকল্প রুট তৈরি হবে। এতে যমুনা সেতুর ওপর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমবে এবং মহাসড়কের যানজট নিরসন হবে।
জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে যমুনা নদী পার হওয়া এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। একটি স্থায়ী সেতু থাকলে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত ঢাকা বা ময়মনসিংহে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া সম্ভব হবে, যা জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করবে।
জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। এছাড়া দুই পারের মানুষের আত্মীয়তা এবং সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
সেতুটি নির্মিত হলে নদীর উভয় তীরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এছাড়া চরাঞ্চল ও নদী কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূর করতে সহায়ক হবে। সর্বপরি সরকারের ‘ডেল্টা প্ল্যান’ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতু একটি মাইলফলক হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অবহেলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে গতি আনতে এই মেগা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনতা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।