গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা এবং সদস্য সচিব মোফিজুল হক নয়নসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ডাকবাংলো মোড় এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দলে বরণ করে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জাতীয় পার্টি, যুব সংহতি ও ছাত্র সংহতির সভাপতি-সম্পাদকসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নবাগত নেতাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা–ফুলছড়ি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ ফারুক আলম সরকার।
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল কবির রাঙ্গা। আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য ও শিল্পপতি কামরুজ্জামান সোহাগসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতা ও সদস্য সচিব মোফিজুল হক নয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের জাতীয় পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদকসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই যোগদান দলীয় শক্তি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, যোগদানের পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই দুই নেতাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরওয়ার মোহাম্মদ শাহিনের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরওয়ার মোহাম্মদ শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ কাজী মশিউর রহমান যৌথভাবে আতাউর রহমান আতা ও মোফিজুল হক নয়নকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছেন। একই অভিযোগে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি তোমাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল হোসেনকেও বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরওয়ার মোহাম্মদ শাহিন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার দাবি, তাদের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকর্মী দলত্যাগ করেননি।
স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে এই ঘটনাকে বড় চমক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। আতাউর রহমান আতা গাইবান্ধার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি একাধারে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাপার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তার মতো একজন প্রভাবশালী নেতার দলবদলকে সাঘাটায় জাতীয় পার্টির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সাঘাটা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে আতাউর রহমান আতাদের দলত্যাগের ফলে সেই শক্ত অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে এই দলবদল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।