উহুদ যুদ্ধে যখন মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল এবং কাফেররা রাসূলুল্লাহ সা.-এর খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, তখন যে কয়জন সাহাবি নিজের জীবন বাজি রেখে রাসূলুল্লাহ সা.-কে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এক নারী—উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কাব আনসারিয়া রা.। তিনি হাতে তলোয়ার এবং ঢাল নিয়ে কাফেরদের মোকাবিলা করছিলেন।
কুখ্যাত কাফের ইবনে কামিয়া রাসূলুল্লাহ সা.-কে হত্যা করার জন্য তেড়ে এল। উম্মে আম্মারা রা. একাই তার সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন। তিনি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলেন, কিন্তু ইবনে কামিয়া দুই স্তরের বর্ম পরে থাকায় সে বেঁচে গেল। পাল্টা আঘাতে সে উম্মে আম্মারা রা. কে জখম করল। সেদিন তার শরীরে ১২টি গভীর ক্ষত হয়েছিল, যার একটি ছিল ঘাড়ে, যা শুকাতে এক বছর লেগেছিল।
যুদ্ধ শেষে রাসূলুল্লাহ সা. তার ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখে বললেন,
“আল্লাহ তোমাদের পরিবারকে বরকত দিন। আজ নুসাইবার ( উম্মে আম্মারা রা.) মাকাম (মর্যাদা) অমুক অমুক পুরুষের চেয়েও অনেক উঁচুতে।”
উম্মে আম্মারা রা. তখন রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে একটি আবদার করলেন:
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন জান্নাতেও আমরা আপনার সঙ্গী হতে পারি।”
রাসূলুল্লাহ সা. সাথে সাথে দোয়া করলেন:
“হে আল্লাহ! আপনি জান্নাতে তাদেরকে আমার সাথী বানিয়ে দিন।”
এ কথা শুনে উম্মে আম্মারা রা. খুশিতে আত্মহারা হয়ে বললেন:
“দুনিয়াতে আমার ওপর দিয়ে যত ঝড় বা বিপদই যাক না কেন, এই দোয়ার পর আমি আর কোনো কিছুর পরোয়া করি না।”
(সূত্র: আত-তাবাকাতুল কুবরা (ইবনে সাদ) খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৪১২-৪১৫),সিয়ারু আলামিন নুবালা খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭৮)