সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আজ সকাল ১১ টায় সনাতনী বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি সনাতনী সংগঠনের নামে নানা ষড়যন্ত্র ও উস্কানিমূলক অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চক্রান্তের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করেছে সনতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সনাতনী সংগঠন কতৃক আয়োজিত আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সভাপতি জনাব আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ, শ্যামনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সহ-সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কৃষ্ণপদ মন্ডল, পূজা উদযাপন পরিষদ আটুলিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি বাবু দীনেশ কুমার মন্ডল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কিরণ শংকর চ্যাটার্জী, যুগ্ম আহ্বায়ক রনজিত দেবনাথ, সদস্য নিভা রানী চক্রবর্তী, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার মন্ডলসহ সনাতনী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
“সকল সনাতনী সংগঠন”-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একটি কুচক্র মহলের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা বলেন, দেশ ও সমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন।
বক্তারা আরো বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি আমাদের পাশে ছিলো। বিএনপি আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এবং আমরাও এবারের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষে অবস্থান নিয়েছি।
কিন্তু বিগত দিনে আওয়ামী লীগের মতো আমরা রাজনৈতিক বলি হতে চাই না, আপনাদের মধ্যে গ্রুপিং থাকবে, আর সেই গ্রুপিং এর খেলায় আমাদেরকে ব্যবহার করবেন তা হতে পারে না।
আওয়ামী লীগ ও যেমন তাদের গ্রুপিং এর স্বার্থে আমাদেরকে ব্যবহার করেছে, এখন আপনারাও তাই শুরু করেছেন। আমরা সনাতনীরা এদেশে শান্তিপূর্ণভাবে, নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে চাই।
বক্তব্যের শেষাংশে এসে বক্তারা শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ সাহেবকে বিশেষভাবে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন “আমরা এই উপজেলার সনাতনী সস্প্রদায়ের মানুষেরা সবসময় তাকে যে কোন প্রয়োজনে আমাদের পাশে পাই। এজন্য আমাদের সনাতনী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।”
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির রাজনীতি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। এবং দুটি গ্রুপের মাঝে সব সময়ই দলীয় কোন্দল, প্রতিহিংসা ও নানা ইসুতে দ্বন্দ বিরাজমান থাকে।
একটি গ্রুপ (বংশিপুর গ্রুপ নামে পরিচিত) বর্তমান লিড করেন ড. মনিরুজ্জামান। যিনি এক সময় শ্যামনগর উপজেলায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। এরপর ২০১৪ সালে লন্ডন গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে নাম লেখান। ৫ আগস্টের পরে ফিরে এসে অলৌকিকভাবে বিএনপির মনোনয়ন পান।
অপর গ্রুপটি (উপজেলার সদর গ্রুপ নামে পরিচিত) লিড করেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন জনাব আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহেদ। যিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন।
আসন্ন নির্বাচনে দুটি গ্রুপের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কোন্দল আরো বৃদ্ধি পায়। তবে এক পর্যায়ে ড.মনিরুজ্জামানকে সমার্থন দিয়ে দলীয় স্বার্থে সকলে এক হয়ে নির্বাচনের মাঠে কাজ করতে থাকে।
১২ ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ড.মনিরুজ্জামান নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কাজী নজরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন।
এরপরেই ড. মনিরুজ্জামান গ্রুপ এবং ওয়াহেদ স্যারের গ্রুপের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।
ডক্টর মনিরুজ্জামান গ্রুপ মনে করেন আব্দুল ওয়াহেদ স্যারের গ্রুপ ধানের শীষে ভোট দিতে ভোটারদের নিরুৎসাহ করেছে।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় এই অভিযোগ বানোয়াট। তাদের এই অভিযোগ ধোপে টিকতে না পেরে তাদের গ্রুপের সমর্থিত পরিতোষ নামের একজন সনাতন ব্যক্তিকে দিয়ে ‘ভোট দিতে না করার মিথ্যা নাটক সাজায়’ এবং পরিতোষ নামের ব্যক্তিকে দেখা যায় বারবার প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বলে বেড়াচ্ছে, ধানের শীষে ভোট দিয়েছি বলে ওয়াহেদ স্যারের গ্রুপের লোকজন তাকে নাকি হুমকি দিয়েছে, সে এখন তার নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু না হওয়ায় গতকাল পরিতোষ ও সাবেক মহিলা লীগের নেত্রী প্রতিমা রানীকে দিয়ে ড. মনিরুজ্জামান সমর্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া মাত্রই চারিদিকে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে আজ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু মহাজোটের স্থানীয় শীর্ষনেতৃবৃন্দ সহ সনাতনী অন্যান্য সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে গতকালকের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মোঃ রাইহানুল ইসলাম