পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রান্তিক পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
লামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপন দেওয়ান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন,
“নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো সরাসরি সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক সেবার আওতায় আসবে। এতে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, তেমনি প্রকৃত উপকারভোগীরা সহজেই সুবিধা পাবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার গ্রামীণ ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই একটি অংশ, যার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“লামা উপজেলার প্রতিটি যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার যেন এই কার্ডের আওতায় আসে, সেজন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে পরিবার ও সমাজ উভয়ের উন্নয়ন সম্ভব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ ও বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করা যাবে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক উপকারভোগী নারী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাইলটিং পর্যায়ে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হলে পর্যায়ক্রমে লামা উপজেলার সকল ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা সহজ ও স্বচ্ছভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি অঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে।