সিরাজদিখান উপজেলা প্রতিনিধি আলভি খান অভি
মুন্সিগঞ্জে আলু চাষিদের মাথায় হাত। চলতি মৌসুমে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজারো কৃষক। বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। এই দামে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, সংরক্ষণ ও পরিবহন খরচও তুলতে পারছেন না চাষিরা।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলু তোলার পর তা সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজে প্রতি বস্তায় ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এর পাশাপাশি বস্তা কেনা, বদলি বা লোড-আনলোড খরচ এবং বাজারে আনার জন্য গাড়ি ভাড়া—সব মিলিয়ে প্রতি বস্তায় মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। অথচ বাজারে দাম কম থাকায় এসব খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
চাষিরা দাবি করছেন, গত দুই বছর ধরেই তারা আলু চাষ করে লোকসানের মুখে পড়ছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে সেই অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষকই ঋণের বোঝা নিয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং এতে তাদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, আলুর দাম যদি কমপক্ষে ২০ টাকার উপরে বিক্রি করা না যায়, তাহলে চলতি মৌসুমেও তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তাই দ্রুত আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
চাষিরা আশঙ্কা করছেন, বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে অনেক চাষিই আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
মুন্সিগঞ্জ থেকে, উপজেলা প্রতিনিধি আলভি খান অভি, A TV সংবাদ।