নগরীর শিববাড়ি মোড় সংলগ্ন জিয়া হল এলাকায় অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে পুনরায় বসার সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জীবিকার তাগিদে গড়ে ওঠা এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
মেলা আয়োজনের নামে উচ্ছেদ
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে জিয়া হল এলাকার আশপাশে ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান বসিয়ে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছিল। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি বড় মেলার আয়োজন করা হবে—এমন খবর ছড়িয়ে দিয়ে ব্যবসায়ীদের দোকান সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। মেলার দোহাই দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অধিকাংশ দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
পুনরায় বসতে গুনতে হচ্ছে টাকা
দোকান সরানোর পর ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন, সেখানে কোনো মেলার আয়োজন হচ্ছে না। বরং উচ্ছেদ করা জায়গাগুলোতে পুনরায় দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিটি দোকান থেকে ৫ হাজার টাকা করে দাবি করা হচ্ছে। জায়গার অবস্থান ও গুরুত্ব অনুযায়ী কোথাও কোথাও এই অংক ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভয়ভীতি ও গোপনীয়তার চাপ
অভিযোগ রয়েছে, যারা অর্থ দিয়ে পুনরায় দোকান বসিয়েছেন, তাদের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য কঠোরভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে। কেউ জিজ্ঞাসা করলে টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন। এই অদৃশ্য শক্তির ভয়ে এবং ব্যবসা হারানোর শঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অজ্ঞাত পরিচয়ে অর্থ সংগ্রহ
ব্যবসায়ীদের একটি অংশ জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম ব্যবহার করে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এই কার্যক্রমের নেপথ্যে কারা বা কোন প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
তদন্ত ও প্রতিকারের দাবি
শিববাড়ি মোড় এলাকার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মেলা আয়োজনের নামে উচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে অর্থ আদায়ের এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য হয়রানিমুক্ত ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।