বাসিত চৌধুরী | বিশেষ প্রতিবেদন
দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসিতে (ইবিএল) দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জেঁকে বসা একচ্ছত্র আধিপত্য, নারী কর্মকর্তাদের ওপর ভয়াবহ যৌন হয়রানি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিবেশ, যার শিকার হয়ে অকালপ্রয়াণ ঘটেছে মেধাবী ব্যাংকার তামান্না কাদিরের। ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ মেয়াদে এমডি পদে আসীন থাকার সুবাদে আলী রেজা ইফতেখার ব্যাংকের ভেতরে এক স্বেচ্ছাচারী রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ও সাবেক সহকর্মীদের দাবি, ব্যাংকের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে এক অদৃশ্য ‘আয়নাঘর’, যেখানে সুন্দরী নারী কর্মকর্তাদের সুকৌশলে টার্গেট করা হতো এবং এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর রহস্যজনক নীরবতাকে অপরাধের মৌন সমর্থন বা ‘পারস্পরিক ইনডেমনিটি’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেধাবী ব্যাংকার তামান্না কাদিরের মৃত্যুর পর বেরিয়ে আসা তথ্যানুযায়ী, ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও তাকে বিশেষ উদ্দেশ্যে ‘প্রায়োরিটি ব্যাংকিং’-এ বদলি করা হয় এবং ২০১৪ সালের মে মাসে কনজিউমার লিডারশিপ টিমের মিটিংয়ের নামে তাকে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্ট্রিপ বার, মদ্যপ অবস্থায় রাতে রুমে ডাকাডাকি এবং অনৈতিক প্রস্তাবের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। তামান্না কাদির নিজের নীতিতে অটল থেকে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তার ওপর নেমে আসে চরম পেশাগত ও মানসিক নিপীড়ন, যা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এমডির এই টার্গেটকৃত নারীদের ‘ম্যানেজ’ করার জন্য শারমিন আতিক ও তাসমিন হোসেইনের নেতৃত্বে একটি নারী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাসমিন হোসেইনের বাসভবনটি এমডির ‘জলসা ঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং প্রধান শরফুদ্দিন নিউটন এবং অ্যাডমিন ডিপার্টমেন্টের খুররম আলমগীরের নাম উঠে এসেছে। দীর্ঘদিনের এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মীরা মুখ খোলার সাহস না পেলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারা এখন এই ‘প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরাচার’ ও সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্তি এবং সহকর্মী তামান্না কাদিরের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।