মোঃ রুম্মান আলম খান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। একসময় শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকা এই ক্যাম্পাসে এখন নেমে এসেছে এক ধরনের নীরবতা। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে জনশূন্যতার চিত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ৫ মার্চ থেকে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। তবে ১৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি ফেরার ঢল আরও বেড়ে যায়। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কক্ষেই ঝুলছে তালা। অনেক হলেই শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একেবারেই কমে গেছে। তবে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এই হলে এখনো বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।
ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, নানা কারণে তারা এবার ঈদে বাড়ি যেতে পারছেন না। কারও ঈদের পরপরই পরীক্ষা থাকায় বাড়ি গিয়ে আবার দ্রুত ফিরে আসা কঠিন। আবার অনেকের বাড়ি দূরবর্তী জেলায় হওয়ায় যাতায়াতের দীর্ঘ পথ ও বাড়তি খরচও তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ছুটির কারণে ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ হোটেল ও হলের ক্যান্টিন-ডাইনিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে খাবারের দুশ্চিন্তা। যারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন তাদের প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, ছুটির সময় সীমিত পরিসরে হলেও যদি কিছু ক্যান্টিন বা ডাইনিং চালু রাখা যেত, তাহলে ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত। বর্তমানে নীরব ক্যাম্পাসে অবস্থানরত এসব শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের বিষয়টিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।