প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে শরীয়তপুরের বাসিন্দাদের। জেলায় চলমান জ্বালানি তেল সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
তবে এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে চালু হয়েছে অ্যাপ ভিত্তিক নতুন ব্যবস্থা, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করছে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে শরীয়তপুরের একটি প্রধান পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহীরা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে অ্যাপ খুলে ফুয়েল বুকিং নিশ্চিত করছেন, আবার কেউ বসে বসে অপেক্ষা করছেন। পাম্পের সামনে সাদা টেপ দিয়ে লাইন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। একজন যুবক নীল টি-শার্ট পরে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, পাশে আরেকজন লাল হেলমেট পরে বাইক নিয়ে অপেক্ষায়। পাম্পের পাশে বসে থাকা এক তরুণ তার স্মার্টফোনে কিছু চেক করছেন—সম্ভবত নতুন অ্যাপের মাধ্যমে টোকেন নেওয়ার চেষ্টা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রহিম (৩২) বলেন, “প্রতিদিন রোদে দাঁড়িয়ে ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় তেলও শেষ হয়ে যায়। এখন অ্যাপে বুকিং দিলে সময় বাঁচে, কিন্তু সবাই তো স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে না।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ফুয়েল বুকিং অ্যাপ’ নামে একটি নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে আগাম বুকিং করে পাম্পে এসে সরাসরি তেল নেওয়া যাবে। এতে লাইনে দাঁড়ানোর সময় কমবে এবং রোদে ভোগান্তি কমবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির স্থানীয় প্রতিনিধি জানান, “অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ কম থাকায় আমরা শুধু বুকিংকৃত গ্রাহকদেরই সেবা দিচ্ছি। অ্যাপটি এখন পরীক্ষামূলকভাবে চালু আছে। আশা করছি, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পুরো জেলায় এটি কার্যকর হবে।”
এদিকে, সংকটের কারণে জেলার পরিবহন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির অভাবে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। জেলা প্রশাসক অফিস থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের সাধারণ মানুষ এখন আশায় বুক বেঁধে আছেন যে, অ্যাপ ভিত্তিক এই উদ্যোগ সত্যিই তাদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাবে। তবে অনেকে মনে করেন, অ্যাপের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।