প্রকৃতপক্ষে নবী (সা.) তাঁর দাওয়াতি মিশনকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে শিক্ষাদান, জ্ঞানার্জন এবং জ্ঞানের প্রসারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত রেখেছিলেন।”
প্রকৃতপক্ষে নবী (সা.) তাঁর দাওয়াতি মিশনকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে শিক্ষাদান, জ্ঞানার্জন এবং জ্ঞানের প্রসারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত রেখেছিলেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৭৮)
পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন—যদিও তারা এর আগে সুস্পষ্ট ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।’ (সুরা : জুমআ, আয়াত : ২)
এভাবে কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর বান্দাদের মধ্যে শুধু জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে।’
(সুরা : ফাতির, আয়াত : ২৮)
আরো বলেন, ‘যারা জানে এবং যারা জানে না—তারা কি সমান?’
(সুরা : জুমার, আয়াত : ৯)”
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বিনের জ্ঞান দান করেন।”
অধ্যাপক ওমর ওবায়েদ বলেন, মানবজাতির প্রতি নাজিল হওয়া সর্বশেষ ওহির সূচনা যেহেতু ‘পড়ো’ শব্দ দিয়ে, তাই এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে পঠন, জ্ঞানার্জন, শিক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রদানই এই ধর্মের মূল চাবিকাঠি। এগুলোই ইসলামের মূল্যবোধ ও বিধান বোঝার পথ এবং মানবতা ও সভ্যতার উন্নতি ও অগ্রগতির প্রধান মাধ্যম।
ইসলাম একদিকে প্রকৃত ধর্মীয় অনুশীলন এবং অন্যদিকে পরিশুদ্ধ, সুশীল ও সভ্যতা-সংস্কৃতিবান মানুষ গঠনের ওপর ভিত্তি করে একটি শিক্ষানিবেশ মনন গড়ে তোলে।”
তাই কোরআন যে বৈজ্ঞানিক মানস প্রতিষ্ঠা করতে এসেছে, আজকের এই সময়ে মুসলিম জাতির জন্য সেটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এটিই একমাত্র চিন্তাধারা, যা ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যে কোনো মৌলিক বিরোধ বা সংঘাত আছে—এই ধারণাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে; বরং এই মানসিকতা আধুনিক বিজ্ঞানের সেই সংকীর্ণ ও হ্রাসবাদী ব্যাখ্যার সমালোচনা করে, যা বিজ্ঞানকে শুধু প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সীমিত পরিসরে আবদ্ধ করে রেখেছে।”