মনু নদের কূলে বেড়ে ওঠা এক কিশোরীর পায়ের ছাপ এখন কানাডার পার্লামেন্টের মেঝেতে। মৌলভীবাজারের মেয়ে ডলি বেগম টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে লিখলেন নতুন ইতিহাস।
সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি। আর এই জয়েই প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি হাউজ অব কমন্সে পেয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সরকার টিকিয়ে রাখতে যে একটি আসনের অপেক্ষায় ছিল দল, সেই চাবিকাঠিই এখন ডলি বেগমের হাতে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনু নদের পাড়েই শৈশব কেটেছে ডলি বেগমের। বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের সঙ্গে মাত্র ১২ বছর বয়সে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি। নতুন দেশ, নতুন ভাষা—তবু থেমে থাকেননি। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) থেকে অর্জন করেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
পড়াশোনার পাশাপাশি কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন, লড়েছেন শ্রমিক অধিকার নিয়ে। কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে ধাপে ধাপে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন মেধা আর শ্রম দিয়ে। আজ তার এই উত্থান কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের চোখে স্বপ্নের জানালা খুলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়। কানাডার জাতীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্বীকৃতিও এটি। একসময় যারা শুধু অভিবাসী হিসেবে কানাডায় গেছেন, আজ তারাই দেশটির নীতিনির্ধারণী টেবিলে বসছেন।
ডলি বেগমের সাফল্যে আনন্দের জোয়ার বইছে সিলেট ও মৌলভীবাজারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে উঠেছে অভিনন্দন বার্তায়।
মনু নদের তীর থেকে হাউজ অব কমন্স—ডলি বেগম দেখিয়ে দিলেন, শিকড় যত দূরেই থাকুক, স্বপ্ন আর সাহস থাকলে পৃথিবীর যে কোনো দরজা খুলে যায়।