সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। মাত্র একদিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরদিনই তেলের দোকানে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ লাইন, যা এলাকায় তীব্র সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।
জানা গেছে, জগন্নাথপুর পৌর শহরের রাণীগঞ্জ রোডে অবস্থিত খুচরা তেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাঈম ট্রেডার্সে লিমিট করে দুই লিটার করে দিচ্ছে তেল গত ১৪ এপ্রিল পুরো দিন জ্বালানি তেল (পেট্রোল ও অকটেন) সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে করে অনেক মোটরসাইকেল চালক তেল সংগ্রহ করতে না পেরে বিপাকে পড়েন।
এরই প্রেক্ষিতে ১৫ এপ্রিল বুধবার বিকেল থেকে দোকানটিতে তেল সরবরাহ শুরু হলে শতশত মোটরসাইকেল আরোহী একসাথে তেল নিতে ভিড় করেন। দোকানের সামনে কয়েকশ’ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যা আশপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি করে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা জানান, “একদিন তেল না থাকায় পরদিন এত চাপ পড়েছে যে তেল নেওয়াই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে, আবার কাজেও দেরি হচ্ছে।”
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, “জ্বালানির এই সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আমাদের দৈনন্দিন চলাচলই বন্ধ হয়ে যাবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরবরাহ ব্যবস্থার কিছুটা ব্যাঘাতের কারণেই এই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে হঠাৎ করে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যদি নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
সচেতন মহল মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের তেল মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল পরিবহন ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এ সংকট নিরসন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।