শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগতদের ক্রিকেট খেলতে বাধা দেওয়ায় এক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও তার তিন নাবালিকা মেয়েকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে । গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা কোদালপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নাহিদা (৪০) এবং তার তিন মেয়ে হাফসা (১২), তায়েবা (৯) ও মিম (৭)। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোদালপুর ইউনিয়নের রফিক গাজীর ছেলে রাফিন গাজী (২৩) প্রতিদিন একদল যুবক নিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে ক্রিকেট খেলতেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিবেশ ও কোয়ার্টারে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতো। বৃহস্পতিবার বিকেলে খেলা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা হাসপাতালের ভেতরে আড্ডা দিতে থাকে। পরিদর্শিকা নাহিদা গেট বন্ধ করার জন্য তাদের বেরিয়ে যেতে বললে রাফিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
ভুক্তভোগী নাহিদা জানান, গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় রাফিন তার হাতে থাকা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মায়ের চিৎকার শুনে তার তিন শিশুকন্যা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পাষণ্ড রাফিন তাদেরও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় মো. রাজু ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন “আমি স্বচক্ষে রাফিনকে ওই মা ও সন্তানদের ওপর ব্যাট দিয়ে হামলা করতে দেখেছি। ঘটনা সুস্থ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ বলেন, “হাসপাতালের ভেতরে খেলাধুলা করতে নিষেধ করা আমাদের দায়িত্ব। সন্ধ্যা হওয়ার পর নাহিদা তাদের বের হতে বলায় তার ওপর যে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।”
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন জানান, “হাসপাতালে ঢুকে নারী ও শিশুদের ওপর মারপিটের ঘটনায় থানায় ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”