রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অঙ্গ হারানো ১০ বছরের এক শিশুর জীবনের গল্প এখন কেবলই কান্না আর শূন্যতার। তবে সেই অন্ধকারের ভেতরেই জ্বলে উঠেছে মানবতার এক নিভৃত প্রদীপ। তৃতীয় লিঙ্গের একজন মানুষ পরম মমতায় আগলে রেখেছেন শিশুটিকে।
ছবিতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের চেয়ারে নিথর বসে আছে শিশুটি। চোখেমুখে শূন্যতা আর ভয়। পাশে বসে আছেন হিজড়া সম্প্রদায়ের সেই মানুষটি। খতনা করাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এই শিশুর সার্বক্ষণিক দেখাশোনা আর যত্নের ভার এখন তার কাঁধে।
যেখানে স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন, পরিস্থিতির চাপে দিশেহারা, সেখানে এই মানুষটির এগিয়ে আসা আমাদের সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—মানবতার কোনো লিঙ্গ নেই, কোনো পরিচয় নেই।
শিশুটির অঙ্গহানি শুধু শরীরের ক্ষত নয়। এটা তার পুরো ভবিষ্যতের ওপর এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন। এই দুঃসময়ে তাকে মানসিক সাহস দেওয়া, তার ক্ষতে ওষুধ লাগানো, খাইয়ে দেওয়া—সবটাই করছেন ওই হিজড়া সদস্য। তার এই নীরব সেবা প্রমাণ করে, মানুষের আসল পরিচয় তার কাজে, তার সহমর্মিতায়।
অপচিকিৎসা এই অবুঝ শিশুর জীবন থেকে যা কেড়ে নিয়েছে, তা কোনোদিন ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। কিন্তু এই দুর্দিনে তৃতীয় লিঙ্গের ওই সদস্য যেভাবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তা আমাদের শেখায়—মানবতা ধর্ম, বর্ণ আর লিঙ্গের অনেক ঊর্ধ্বে।
শুধু সমবেদনা নয়, এই শিশুটির সুচিকিৎসা আর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এখন আমাদের সবার দায়িত্ব। যার যার জায়গা থেকে একটু সহযোগিতার হাত বাড়ালেই হয়তো ওই শূন্য চোখে আবার আলো ফিরবে।