দেশের লাখো ফ্রিল্যান্সারের মুখে হাসি ফোটাতে বড় উদ্যোগ নিল সরকার। এবার শুধু প্রশিক্ষণ নয়, মিলবে পরিচয়পত্র, সহজ হবে বৈদেশিক আয়ের পথ। তথ্যপ্রযুক্তিকে কর্মসংস্থানের মূল হাতিয়ার বানিয়ে বাংলাদেশকে আইটি হাবে পরিণত করার মহাপরিকল্পনা সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে পেপ্যাল চালুর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন আইডি কার্ড
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে সরকারি পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৭,৫০০ জনকে আইডি কার্ড দেওয়া শেষ। এই কার্ড থাকলে ব্যাংকিং, ভিসা প্রসেসিং থেকে শুরু করে নানা সরকারি সেবা পাওয়া সহজ হবে।
এআই-এমএল-ভিআর প্রশিক্ষণ পাবেন ২,৪০০ তরুণ
শুধু পেমেন্ট নয়, দক্ষতা উন্নয়নেও বড় চমক। হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০২৬ সালের মধ্যেই ২,৪০০ তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অনলাইনে মিলবে আরও ১০টি সেবা
বিনিয়োগ ও ব্যবসার গতি বাড়াতে এখন ৮৩টি সরকারি সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার পার্কগুলোকে আরও কার্যকর করাও সরকারের অগ্রাধিকারে আছে।
১ হাজার শিক্ষার্থী, ৫ হাজার চাকরিপ্রার্থীকে আইটি প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে ১,০০০ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডেটা অ্যানালিটিক্স, পাইথন, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও সাইবার সিকিউরিটিতে ৫,০২০ জন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীকে শর্ট কোর্স ও ডিপ্লোমা করানো হবে।
বাদ যাবে না কেউ: নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদেরও প্রশিক্ষণ
সামাজিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে ৭০০ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। ‘উইমেন ইন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ৭০০ নারী উদ্যোক্তাও পাবেন দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ।
এই এপ্রিল সেশনে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থী সরাসরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু নারী উদ্যোক্তা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী সফলভাবে কোর্স শেষ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আইসিটি খাতের বিকাশ ঘটিয়ে আমরা বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। তরুণরাই হবে এই রূপান্তরের কারিগর। পেপ্যাল চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ আরও সুগম হবে।”
সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ যে দ্রুতই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আইটি হাবে পরিণত হবে, সেই আশা করছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা।