নিউজ ডেস্ক, এটিভি সংবাদ //
“ত্যাগ, ভালোবাসা আর আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য এক শিক্ষা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর সেই ঈদকে ঘিরেই দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠেছে কোরবানির গরুর বেচাকেনা।
দূর-দূরান্ত থেকে খামারিরা নিয়ে এসেছেন লালন-পালন করা গরু। কারো চোখে স্বপ্ন, কারো মনে বছরের পরিশ্রমের আশা। আর ক্রেতারাও খুঁজছেন সাধ্যের মধ্যে পছন্দের কোরবানির পশু। হাটজুড়ে চলছে দরদাম, ব্যস্ততা আর মানুষের ঢল।
তবে ইসলাম বলছে, কোরবানি শুধুমাত্র পশু জবাইয়ের নাম নয়— এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং আত্মসমর্পণের এক মহিমান্বিত ইবাদত। হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকেও ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই ত্যাগের মহান আদর্শই আজও বহন করে চলেছে মুসলিম উম্মাহ।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধুমাত্র তোমাদের তাকওয়া।’ অর্থাৎ কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দেওয়া।
হাদিস শরীফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরবানির দিনে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা। তাই সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য এটি শুধু একটি রীতি নয়, বরং ঈমান ও ভালোবাসার এক গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।
ইসলামে কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। পশু হতে হবে সুস্থ, ত্রুটিমুক্ত এবং নির্ধারিত বয়সের। কারণ ইসলাম শুধু কোরবানি শেখায় না, বরং প্রতিটি প্রাণীর প্রতি দয়া ও মানবিক আচরণের শিক্ষাও দেয়।
কোরবানির এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটিও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করতে পারার নামই প্রকৃত ঈমান। আর সেই ত্যাগের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে মানবতা, সহমর্মিতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।