যশোর জেলা প্রতিনিধি//
যশোরের পুলেরহাট এলাকার আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ইমরান হোসেন (৩৫) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহত ইমরান শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়া এলাকার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসক তাকে একাধিক ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন প্রয়োগের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তিনি মারা যান। তবে মৃত্যুর পরও তাকে কিছু সময় আইসিইউতে রেখে পরে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন জানান, প্রথম ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই ইমরান অস্বস্তি বোধ করেন। পরবর্তীতে আরও ইনজেকশন দেওয়ার পর তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের উপস্থিত করে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন। একপর্যায়ে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে নিহতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীকে নিয়ম অনুযায়ী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও দেখেছেন। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।