জয় আহমেদ জনি নাটোর প্রতিনিধি//
নাটোরে সিংড়ার চলনবিলে
বিঘাপ্রতি লোকসান ১০-১২ হাজার টাকা
এলাকায় আকস্মিক বন্যার পানিতে ডুবে গেছে পাকা ভুট্টার ক্ষেত। ফসল কাটার মৌসুমে হঠাৎ বন্যার কবলে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পানিতে ডুবে যাওয়া জমি থেকে ভুট্টা সংগ্রহ, শুকানো ও সংরক্ষণ করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, ভুট্টা কাটার উপযুক্ত সময়ে উজান থেকে নেমে আসা আত্রাই নদীর পানি চলনবিলে প্রবেশ করে। মাত্র দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে সৃষ্টি হয় আকস্মিক বন্যা। এতে নিচু এলাকার পাকা ভুট্টার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে বুকসমান পানিতে নৌকা ব্যবহার করে ভুট্টা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের দক্ষিণ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে কিংবা নৌকায় করে ভুট্টা ভাঙছেন। অন্যদিকে সংগ্রহ করা ভুট্টা শুকানোর জন্য রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মমিন জানান, তার ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘার ভুট্টা পানিতে ডুবে গেছে। তিনি বলেন,আগে যেখানে স্বাভাবিক খরচে শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ডুবে যাওয়ায় ফলন কমেছে, আবার ভুট্টার রং নষ্ট হওয়ায় বাজারে দামও কম পাচ্ছি।
কৃষক শাহিন জানান, তার ৪ বিঘা জমির ভুট্টা পানির মধ্যে থেকে সংগ্রহ করে পাশের বেড়াবাড়ি ও পাড়িল গ্রামের সড়কে এনে শুকানোর ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, লিজ, সেচ, সার ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু ফলন পাচ্ছি মাত্র ১২ থেকে ১৫ মণ। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না, বরং প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
আরেক কৃষক তমেজ উদ্দিন বলেন, এ বছর আমরা দুই দফা ক্ষতির শিকার হয়েছি। বোরো ধান কাটার সময় একবার বন্যায় ক্ষতি হয়েছে, এখন ভুট্টা কাটার সময় আবার ক্ষতির মুখে পড়লাম। দুই আবাদেই আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।স্থানীয় কৃষকদের মতে, পানিতে ভুট্টা সংগ্রহ করতে গিয়ে শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তারপরও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে সিংড়া উপজেলায় ২ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কৃষক ইতোমধ্যে ফসল ঘরে তুলেছেন এবং সামগ্রিকভাবে ফলনও ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় বিলাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। কৃষিপ্রণোদনা, কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
আকস্মিক বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ফলন ও বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় চলনবিল অঞ্চলের ভুট্টা চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে ।