মোঃ রাইহানুল ইসলাম শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি//
সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে প্রবেশকারী খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদী থেকে এবার কোটি কোটি টাকার বালু লুটকরার লক্ষে মাঠে নেমে পড়েছেন একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র, প্রতিদিন প্রকাশ্যে লক্ষ লক্ষ ফুট বালি উত্তোলন করা হচ্ছে এই দুই নদী থেকে।নদী দুটির সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ত্রিশ গ্রামের মানুষ এখন চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, প্রসাশন, জনপ্রতিনিধী, সাংবাদিক সবই নাকি তাদের কাছে জিম্মি।
এদিকে সরকারী ভাবে বালু মহলের কোন ডাক না থাকায় একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন প্রকাশে লোকালয় সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদী থেকে দেদারছে বালু উত্তোলন পুর্বক বিক্রি করছে।
সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে আসা খোলপেটুয়া নদীর তীরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষের বসবাস। আর এই নদীর বুক থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করলে যে কোন সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে এমনটি জানিয়েছে ওই এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী মহল।
সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নওয়াবেকী এলাকায় বালু উত্তোলন করে গাদা দিয়ে তার পর সেখান থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। দেখা যায় মোঃ মুজিবর রহমান, বেলাল হোসেন, আবু মুছা, রনি জনি, চঞ্চল , আবুল বাসার মেম্বার, যুবদল নেতা হাবিবুল্ল্যাহ সহ আরো কয়েকজন ব্যক্তি এই অবৈধ বালি উত্তোলন পুর্বক গাদা করে সেখান থেকে প্রকাশ্যে দেদারছে বিক্রি করে যাচ্ছেন। এ সকল অবৈধ বালু গাদা থেকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার বালি বিক্রি হয়ে থাকে। এ গাদা ৬/৭ টাকা ধরে বালি কিনে ঠিকাদার ও সাধারন মানুষ সরকারী ও বে-সরকারী কাজে ব্যবহার করছেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক গাদামালিক বলেন, এভাবে বালু লুটের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসে প্রায় ৩/৪ কোটি টাকার বালি ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
জামায়াতের এমপির নিকট আত্মীয় মজিবর ও ক্ষমতাসীন বিএনপি’র সাতক্ষীরা ৪ এর নমিনি ড.মনিরুজ্জামানের সহযোগী ও তার মদদপুষ্ট যুবদল নেতা পরিচয়ে হাবিবুল্লাহ ও আল- আমীন সম্পুর্ন ভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন। (ইতিপূর্বে নানা অবৈধ অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত থাকায় যুবদল থেকে হাবিবুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। গত কয়েকদিন আগে তার বহিষ্কার আদেশ তুলে নেওয়া হয়। বহিষ্কার আদেশ তুলে নেওয়ার পর পরই হাবিবুল্লাহ আবারো বেপরোয়া হয়ে ওঠে) আমরা তাদের কে টাকা দিয়ে বালি কিনে তারপর বিক্রি করছি।
সরকারী ভাবে সম্পুর্ন রুপে বালি উত্তোলন বন্ধ থাকার পর এই বালু লুটকারি সিন্ডিকেট টি বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্য্যক্রম।
উপজেলার পদ্ধপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদুল ইসলাম বলেছেন লোকালয়ের খোলপেটুয়া নদীর যেখান সেখান থেকে বালু উত্তোলন করলে যে কোন সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে,তিনি প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে একটি সুত্র জানিয়েছে সাতক্ষীরা টু ভেটখালী সড়কের কাজের ঠিকাদারদের সাথে ৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির চুক্তি নামা ইতিমধ্যে সম্পুর্ন হয়েছে।
খোলপেটুয়া নদী থেকে এভাবে বালি উত্তোলন করতে থাকলে যে সময় বালির লেয়ার সরে গেলে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।এদিকে উপকুলীয় এলাকার সচেতন মহল বলেছেন, এই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আমরা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনজীবন রক্ষার তাহিদে মাঠে নামতে বাধ্য হবো।
অনেক সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকাশ্যে দিনে রাতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে কিন্তু প্রসাশন কেন এটা বন্ধ করছেন না, বালি গাদাগুলোতে গেলে দেখা যাবে তারা লাখ লাখ ফুট বালি স্তুপ করে দিনে রাতে বিক্রি করছেন,যারা এই বালি গুলি গাদায় বসে থেকে বিক্রি করছেন তাদের কে কেন ধরা হচ্ছে না।
উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে আমরা একাধিক অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় ও সাজা প্রদান করেছি, কেউ যদি অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে এক সংবাদকর্মী বলেছেন, এভাবে যদি বালি উত্তোলন অব্যাহত থাকে আর প্রসাশন যদি দর্শকের ভুমিকা পালন করেন, তাহলে আমরা আমাদের প্রাকৃতি সম্পদ,পরিবেশ আর জনজীবন রক্ষায় আদালতে যেতে বাধ্য হবো।
উল্লেখ্য, অবৈধ এ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যখন সাংবাদিকরা নিউজ করেন কেবল তখনই প্রশাসন একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অন্যথায় অবৈধ বালু সিন্ডিকেট মহলের বিরুদ্ধে কোন প্রকার পদক্ষেপ না নিয়ে প্রশাসন বেশির ভাগ সময় নীরব ভূমিকাই পালন করে।
এ বিষয়ে খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদী তীরে বসবাসকৃত মানুষের সাথে কথা বলতে গেলে, তারা বলেন, “আপনাদের সাথে বলে কি লাভ আপনারা চলে গেলেই আবার আমাদের উপরে হুমকি-ধমকি আসে তাই আমরা কিছু বলতে চাই না” প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্যে থেকে বসবাস করছি। কারা হুমকি দেয় জানতে চাইলে তারা নাম না উল্লেখ করে শুধু বলেন “জামায়াত বিএনপির নেতারা”
স্থানীয়রা এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ও বেপারা এ ভালো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।