মো. আতিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার//
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর সমর্থকদের নানা রকম ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড। বিশ্বকাপের সেই উন্মাদনার মধ্যেই পটুয়াখালীতে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্রাজিলের জয়ের পর নিজের মাথা ন্যাড়া করিয়ে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন কাজী রাফি নামের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক।
জানা গেছে, পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজী রাফি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে চলা মজার প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, ব্রাজিল যদি হাইতির বিপক্ষে জয়লাভ করে তাহলে তিনি নিজের মাথা ন্যাড়া করবেন।
শনিবার (২০ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে হাইতির বিপক্ষে জয় তুলে নেয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই রাফির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রাজিল সমর্থকরা মজা করে তাকে তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকার ব্রাজিল সমর্থকরা রাফির বাসায় জড়ো হন। পরে তিনি নিজেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে শহরের ঝাউবন এলাকায় আসেন। সেখানে উপস্থিত শতাধিক ফুটবলপ্রেমী ও ব্রাজিল সমর্থকের সামনে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মাথা ন্যাড়া করান।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, হাস্যরস ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মাথা ন্যাড়া করার পর কাজী রাফি বলেন, “আমি কথা দিয়েছিলাম, তাই কথা রেখেছি। ফুটবল আমাদের আনন্দের খেলা। এখানে হার-জয় থাকবেই, তবে বন্ধুত্ব ও প্রতিশ্রুতির মূল্য সবচেয়ে বেশি। আমি চাই খেলাকে ঘিরে সবাই আনন্দ করুক, কিন্তু কোনো ধরনের বিরোধে না জড়াক।”
স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা এলাকায় আনন্দের আবহ তৈরি করেছে। অনেকেই এটিকে ফুটবলপ্রেমীদের সুস্থ বিনোদন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যে কাজী রাফির এই ঘটনা এখন পটুয়াখালীর ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সমর্থন যেই দলেরই হোক, কথা রাখার মানসিকতাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড়