যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কোনো কর আরোপ ছাড়াই প্রণীত এ বাজেটে মাল্টিপারপাস পৌর ভবন নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির সরবরাহ, সড়ক আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঝিকরগাছা পৌর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২৯তম বাজেট সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট ঘোষণা করেন ঝিকরগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদ। বাজেটের বিভিন্ন দিক, সম্ভাব্য আয়-ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) সন্তোষ কুমার হাজরা।
বাজেটে পৌরবাসীর মৌলিক নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মোল্লা, প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আরমান হোসেন কাঁকন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আশরাফুল আলম রানা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি আঁখি খাতুনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বাজেট আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নতুন কোনো কর আরোপ না করে উন্নয়নমুখী বাজেট প্রণয়ন করায় সাধারণ নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না। বরং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ঝিকরগাছা পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
সভায় বক্তারা বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বরাদ্দের ফলে পৌর এলাকায় সড়ক, ড্রেনেজ, জনসেবা এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘোষিত বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ঝিকরগাছা পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভায় রূপান্তরিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারাও উন্নয়ন কার্যক্রমে নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, ঘোষিত বাজেটের আওতায় থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়িত হলে পৌরবাসী সরাসরি এর সুফল ভোগ করবে। এতে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে, জীবনযাত্রা হবে সহজতর এবং ঝিকরগাছা পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও মডেল পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।