ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) সংসদীয় আসনের চরাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি খাস জমি জবরদখলকারী অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী, প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে তিনি মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নোটিশ দিয়েছেন।
গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে দাখিলকৃত এই নোটিশে তিনি চরাঞ্চলের খাস জমি বণ্টন প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও স্থানীয় অসহায় মানুষের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন।
সিকদারের চরসহ বিভিন্ন চরে অসাধুদের দাপট
অনুসন্ধানে ও এমপি মহোদয়ের নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলা-৪ আসনের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে অসংখ্য চর রয়েছে, যার মধ্যে চরফ্যাশনের ঐতিহ্যবাহী ‘সিকদারের চর’ অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর অসাধু চক্র, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং ভূমিদস্যুরা ভুয়া দলিল ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে এই চরের বিপুল পরিমাণ জমি জবরদখল করে ভোগ করে আসছে। চরাঞ্চলে মূলত ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এর ফলে চরের প্রকৃত বাসিন্দা, মূল মালিক এবং দুস্থ ভূমিহীনরা বছরের পর বছর ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার ও সরকারি সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সিদ্ধান্তের
এই প্রেক্ষাপটে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা জবরদখলকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে তা প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের মাঝে সুষম ও আইনি প্রক্রিয়ায় বণ্টন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
খাস জমির পরিসংখ্যান ও আইনি অধিকার
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট খাস জমির পরিমাণ ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৪ একর। এর মধ্যে কৃষি খাস জমি প্রায় ২০ লাখ ৭১ হাজার একর এবং অকৃষি খাস জমির পরিমাণ ১৭ লাখ ৮১ হাজার একরের বেশি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ Rally ৮৪ হাজার একর জমি সরাসরি কৃষি কাজের উপযোগী।
’ভূমি সংস্কার আইন’ ও ‘কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা’ অনুযায়ী একজন প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার কৃষি কাজের জন্য ১ থেকে ১.৫ একর এবং ভিটেমাটির জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ খাস জমি পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন। অথচ ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ও ঘুষের বিনিময়ে সচ্ছল ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা পাকা বাড়ির মালিকরা একই ব্যক্তির বিভিন্ন ভুয়া নামে এই জমি বরাদ্দ নিয়ে নিয়েছে।
সংসদ সদস্য তাঁর নোটিশে জোর দিয়ে বলেন, সিকদারের চরসহ চরাঞ্চলের এই বিপুল পরিমাণ খাস জমি যদি প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সঠিকভাবে বন্দোবস্ত প্রদান করা যায়, তবে তা এই অঞ্চলের অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চরাঞ্চলে খাস জমি বণ্টনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং ভূমিদস্যুদের কবল থেকে সরকারি জমি মুক্ত করে প্রকৃত গরিবদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এমপি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন।