মধুপুরে মো. রাসেল তালুকদার ওরফে ‘প্রেমা’ নামে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়ে ঝরে পড়া পথ শিশুদের নিয়ে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এলাকায় নজীর সৃষ্টি করেছেন।
মানুষ আজ সভ্যতার উন্নত শেখরে আরোহন করলেও সমাজের মানুষগুলো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলোকে মানুষ হিসাবে মনে করে না। যেখানে তৃতীয় লিঙ্গের লোকগুলো ছিনতাই চাঁদাবাজি বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত সেখানে মো. রাসেল তালুকদার ওরফে ‘প্রেমা’ স্কুল মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে এলাকার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিচ্ছেন।
৭ জুলাই মঙ্গলবার এটিভি’র নিজস্ব প্রতিনিধি সরেজমিনে প্রেমার স্কুল পরিদর্শন করেন। মধুপুর পৌরসভার প্রত্যন্ত নিবিড় এলাকায় “স্বপ্ন জয়ী পাঠশালা” নামে তার বিদ্যালয়টি ধীরগতিতে এগিয়ে চলছে, শিক্ষিকা মোসাম্মৎ শিরিন আক্তারের বিশেষ তত্ত্বাবধানে মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কিশোর কিশোরীরা পাঠদান গ্রহণ করছেন।
মোসাম্মৎ শিরীন আক্তার বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানে প্লে শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হচ্ছে, সরকার এবং ধনবান ব্যক্তিদের সাহায্য পেলে আমরা আগামী বছর ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে চাই।
নীরব নামে তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্র সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী, আমার কোন অভিভাবক নেই এলাকায় ঘুরতাম খেতাম প্রেমা আপা আমাকে ডেকে এনে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় এবং আমার খাতা-কলম এবং স্কুলের পোশাক পর্যন্ত তিনি দেন।
মো. রাসেল তালুকদার ওরফে প্রেমা টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার চৈথট্র গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মায়ের পঞ্চম সন্তান, তিনি হিজরা হওয়ায় বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণী এবং পাকুটিয়া আশ্রম স্কুল থেকে ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাস করেন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রেমা বলেন, আমরা তৃতীয় লিঙ্গের লোক সমাজ আমাদেরকে ঘৃণা করে, না পারি সমাজকে কিছু উপহার দিতে, পেটের দায়ে আমাদের মানুষের কাছে হাত পেতে সাহায্য নিতে হয়।
অন্য কোন কাজ না করতে পেরে মানুষের কাছে হাত পেতে আমাদের চলতে হয়, আজ আমাদের যে অবস্থা এর জন্য দায়ী কে? আমরা তো নিজেরা নিজে থেকেই এটা করি নাই এটা আল্লাহর মাধ্যমে হয়েছে।
গত ১২ জানুয়ারি ২০২২ আমরা তিন বন্ধু প্রেমা, প্রীতি, শিল্পী, উদ্যোগ নিলাম আমরা তো মানুষের মাঝে অবহেলিত, দেখি সমাজ এবং মানুষকে আমরা কিছু উপহার দিতে পারি কিনা সেই উদ্যোগের ফসল ”স্বপ্নজয়ী পাঠশালা”
তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ রাখবো, আপনারা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে আমার এই দুইটি প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হবে। একটি হচ্ছে স্বপ্নজয়ী পাঠশালা মধুপুর, আরেকটি প্রতিষ্ঠান আমার গ্রামের বাড়ী নূরানী মাদ্রাসা। সে প্রতিষ্ঠানের হুজুরদের বেতন আমার মাধ্যমেই দেওয়া হয়।
আমাদের সমাজে অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের এ মানুষগুলো। অথচ তৃতীয় লিঙ্গের প্রেমা আজ যে নজীর সৃষ্টি করেছেন, এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এটিভি সংবাদ ডটকম’র সম্পাদক এস এম জামান।