কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস পূর্বনির্ধারিত ‘নালিয়ার দোলা’তেই দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই জোরালো কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিগত ২০২৪-২৫ সেশন থেকে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলেও আজ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মুখ দেখেনি, যা পুরো জেলার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। দীর্ঘ আগেই স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান হিসেবে ‘নালিয়ার দোলা’ নির্ধারিত ও মীমাংসিত হওয়া সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অসাধু হস্তক্ষেপে তা নিয়ে নতুন করে কালক্ষেপণ ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রামের সহজ-সরল মানুষদের নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা এই ছেলেখেলা এবং কুড়িগ্রামের উন্নয়নকে অন্যমুখী করার কোনো অপচেষ্টা সাধারণ মানুষ আর কখনো বরদাস্ত করবে না।
প্রভাবশালী মহলের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ক্ষমতার জোরে পূর্বনির্ধারিত স্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সরানোর পাঁয়তারা চালালে তা হবে কেবলই বোকামি। যদি সত্যি থেকেই উন্নয়নের প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে নিজ এলাকায় মেডিকেল কলেজ, ইপিজেড বা অন্যান্য মেগা প্রকল্প নিয়ে আসুন; কুড়িগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ তাতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কিন্তু একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে জল ঘোলা করা এবং কুড়িগ্রামের শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার, জেলা প্রশাসক মহোদয় ও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, কোনো কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বা কথায় কান না দিয়ে পূর্বনির্ধারিত ‘নালিয়ার দোলা’ স্থানেই দ্রুত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হোক। অন্যথায় কুড়িগ্রামের দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
*নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:*
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে *মেরিনা পারভীন* তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখানেই হতে হবে।”
*মাসুদ রানা* বলেন, “কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজ অবিলম্বে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। যেহেতু অনেক আগেই জায়গা নির্ধারিত ও সিলেক্ট করা হয়েছে, তাই এখন কেন এই তালবাহানা করা হবে? আমাদের একটাই ও স্পষ্ট দাবি—কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখানেই প্রতিষ্ঠিত হোক।”
*আসিফ হাসান* তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়নে সকলের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “কুড়িগ্রামের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষ সফল হতে দেবে না। নির্ধারিত স্থানেই বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ একবাক্যে ঘোষণা দেন— “আসুন, একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে আর কোনো টানাহেঁচড়া না করে সবাই কুড়িগ্রামের উন্নয়নে এক হয়ে কাজ করি। উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের দাবি উত্থাপন করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের অধিকার ছিনিয়ে আনি।”
মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন— ‘শিক্ষা, শান্তি, পরিবেশ—নালিয়া দোলা হবে বেশ!’, ‘কথা দিল, কথা রাখ—পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখ!’, ‘শিক্ষা নিয়ে টালবাহানা—চলবে না, চলবে না!’, ‘শিক্ষার জায়গায় রাজনীতি—চলবে না, চলবে না!’