আব্দুল জলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি, মধুপুর, টাঙ্গাইল/
মধুপুর উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে এক গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ৫ আগস্ট বুধবার বিকেল ৫ ঘটিকার মধুপুর রানী ভবানী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই গণমিছিল ও পথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মিছিলটি রানী ভবানী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মধুপুর বাস স্ট্যান্ড চত্বরে এসে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন হয়। প্রতিবাদ সভার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মধুপুর উপজেলার আমির অধ্যাপক আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা বোরহানুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক দল, আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই সনদের সকল কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে ছাড়বো।
মধুপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোন্তাজ আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দীর্ঘ ২ বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হচ্ছে না, আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই অতি তাড়াতাড়ি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আমরা আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সংবিধান, রাষ্ট্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে।
এ সনদে ৮০টিরও বেশি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দিকগুলো হলো;
সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্গঠন, যার মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব রয়েছে।

নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব কমানো, রাজনৈতিক দলে গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি, এবং সংসদে নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
মৌলিক অধিকারের পরিধি সম্প্রসারণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুসংহত করার বিধান। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জাতীয় বীরের মর্যাদা প্রদান এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা প্রদান। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনকল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক করার উদ্দেশ্যে প্রণীত এই সনদ, দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে বলে প্রস্তাব করা হয়।
উক্ত গণমিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর পৌরসভার আমিন মাওলানা ইকবাল হুসাইন। মধুপুর উপজেলা বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজওয়ানুল্লাহ খান, গোসাইবাড়ি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান ও এনসিপির সমন্বয়ক সবুজ।