আব্দুল জলিল, মধুপুর, টাঙ্গাইল //
টাঙ্গাইলের মধুপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কমিউনিটি ভিত্তিক দশ বাড়ি পানি সরবরাহের পাম্প গভীর নলকূপ স্থাপন ও পাইপলাইন বসানো কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার দশ বাড়িতে পানির সরবরাহের এই প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই জনসাস্থ্য প্রকৌশলী সহযোগিতায় মোটা অংকের বিল উত্তোলন করে এখন ঠিকাদার উধাও।
বছরের পর বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে ১৮টি পাম্প বসানোর নাম করে বোরিং করা গভীর নলকূপের পাইপ। কোন কোন জায়গায় পাইপে সাবমারসিবল মোটর লাগালেও তা নষ্ট হয়ে ব্যবহার অকেজো হয়ে আছে। ১৮টি পাম্প বসানোর নাম করে বোরিং করা গভীর নলকূপের পাইপ আর পানির ট্যাংকি বসানো বাড়ি বাড়ি পাইপ লাগানোর তো খবরই নাই।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন ১৮টি প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে এ দপ্তর যেন দুর্নীতির আখড়া, কাজ শেষ করার আগেই প্রকৌশলীর সহযোগিতায় বিল উত্তোলন করে ঠিকাদার পালানোয় এ প্রকল্পটি এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
সরকারের গচ্ছা যেতে বসেছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।
উপজেলার আউশতারা, মহিষপাড়া উড়ালিয়া, আলোকদিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন গ্রামে কমিউনিটি ভিত্তিক দশ বাড়িতে পানি সরবরাহ করার জন্য বসানো সাবমারসিবল মোটর পানির ট্যাংকি বসানোর জন্য পিলার নির্মাণ ১০ বাড়িতে পাইপলাইনটানা কল বসানো কলের জায়গায় পাকা করন ও পাম্প স্থাপনের জায়গায় পাকা করন করে দিয়ে ব্যবহারযোগ্য করে দেওয়ার কথা কিন্তু সরে জমিনে দেখা যায় নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার পুরো প্রকল্পের মধ্যে ১৮টি পাইপ বোর্ডিং ও ৫টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র।
যার বিপরীতে ৬০ শতাংশ বিল প্রদান করে এ অফিস, এই প্রকল্পটি ২০২১ / ২০২২ অর্থবছরে চালু করে ৬ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কথা কিন্তু গত প্রায় চার বছর পার হয়ে গেলেও এখনো প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে ঘুরে শুধুমাত্র আশ্বাস ছাড়া কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না এ বিষয়ে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের নেধুরবাজার এলাকার জোসনা বেগম জোহরা বেগম নাসিমা বেগম জানান প্রায় চার বছর আগে এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যান তাদের কাছ থেকে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি আর দশ বাড়ি থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং বলে সরকার বিনামূল্যে মোটর ও পানির ট্যাংকি দিবে বলে একটি পিলার তৈরি করে ট্যাংক বসানোর জন্য কিন্তু প্রায় চার বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন ট্যাংকি চোখে দেখলাম না।
দড়ি হাতিল গ্রামের সোহেল মেম্বার জানান এ প্রকল্পের মোটর ও ট্যাংকি আমার বাবা মেম্বার থাকা অবস্থায় এসেছিল ১০ বাড়িতে দেওয়ার জন্য কিনা জানিনা আমি সাবমারসিবল মটর ও ট্যাংকি পেয়েছি তা এখনো সংযোগ করে দেয়নি, আর দিবে কিনা জানিনা।
অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলে ঠিকাদার পালিয়েছে অপেক্ষা করুন পরে দেয়া হবে। ২০২১ / ২০২২ অর্থবছরে মধুপুর উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৬টি বাড়ি বিস্তৃত কমিউনিটি ভিত্তিক ১৬টি সাবমারসিবল পাম্প তিনটি গভীর নলকুপ বসানোর প্রকল্পে যে টাকা বরাদ্দ আসে এই বরাদ্দ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে যে কাজ করা হয়েছে যা মোট কাজের ৬০ শতাংশ কাজ এখনো শেষ হয়নি।
অথচ অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামালপুরের খন্দকার এন্টারপ্রাইজ কে ৬০ পার্সেন্ট বিল বাবদ 8158129,78 টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খন্দকার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আরিফ খন্দকার এর সাথে মুঠোফোনে ০১৭১১৩৫০৩৫০ একাধিক বার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেয়ার সুযোগ হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা জন স্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন কাগজপত্র ছাড়া আমি কিছু বলতে পারি না যদি বিল দেয়ার এমন কোন ঘটনা হয়ে থাকে তা আমার পূর্বে হতে পারে।