ইমাম হোসেন আকাশ, কোর্ট করেসপন্ডেন্ট /
রাজধানীর বংশাল থানার সিদ্দিকবাজার ঘোড়া গলি এলাকায় ১০ বছর আগের আলোচিত আব্দুল কুদ্দুস মিয়া হত্যা মামলায় মো. মাসুম মিয়া ওরফে কালু নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি ইউনুস মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক জনাব সাদেকুল হাবিব বাপ্পি এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের এ সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এলাকা থেকে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন ভিক্টিম আব্দুল কুদ্দুস মিয়া। ঘোড়া গলিতে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার গতি রোধ করে। এ সময় আসামি মাসুম মিয়া ওরফে কালু ও তার সহযোগী আব্দুল কুদ্দুসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার কাছে থাকা মানিব্যাগ, ব্যাগ ও মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীকালে রক্তাক্ত অবস্থায় রিকশাচালক নুরু আলম তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল কুদ্দুসকে মৃত ঘোষণা করেন। রিকশাচালকের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের চাচাতো ভাই কামাল হোসেন ঢাকায় এসে লাশ শনাক্ত করেন এবং বংশাল থানায় খবর দেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।
এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই কামাল হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের মাধ্যমে আসামি মাসুম মিয়া কালু ও ইউনুসকে গ্রেপ্তার করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামি কালু বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি রিকশা থামিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আব্দুল কুদ্দুসকে হত্যা ও মালামাল ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামি কালুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে অপর আসামি ইউনুসের বিরুদ্ধে অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, “দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির নিজ মুখে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এ রায় প্রদান করেছেন। ভিক্টিমের পরিবার এবং সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালত যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ পুরোপুরি সন্তুষ্ট।”