এস এম জামান। এটিভি সংবাদ /
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার একটি গ্রাম বা এলাকা ঘুল্লিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ জনপদটি ঘিরে এক উদ্বেজনায়ক চিত্র সামনে এসেছে—এলাকার একটি বড় অংশের মানুষের মূল পেশা বা জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ সুদের অবৈধ কারবার।
স্থানীয় জনশ্রুতি এবং বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, ঘুল্লিয়া ও এর আশপাশের এলাকায় সুদের ব্যবসা এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
ঘুল্লিয়া এলাকার ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এখানে চড়া সুদে নগদ অর্থ ঋণ দেওয়া একটি লাভজনক ও রমরমা ব্যবসা। অভাবগ্রস্ত মানুষ, দরিদ্র কৃষক কিংবা ছোট ব্যবসায়ীরা জরুরি প্রয়োজনে এই চক্রের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে এখানে ইচ্ছেমতো মাসিক বা সাপ্তাহিক হারে উচ্চ সুদের শর্তে টাকা দেওয়া হয়।
ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, চেক কিংবা দলিলের ওপর টিপসই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধে সামান্য বিলম্ব বা ব্যর্থতা ঘটলে চক্রটি সেই স্ট্যাম্প বা চেকের ভয় দেখিয়ে গ্রহীতাকে জিম্মি করে ফেলে। নির্যাতন ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া
ঘুল্লিয়া এলাকার এই সুদের কারবার কেবল অর্থনৈতিক শোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সাথে জড়িত রয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
সময়মতো ঋণের কিস্তি বা আসলের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে সুদের কারবারিরা অনেক সময় আইন নিজের হাতে তুলে নেন, যা ভয়াবহ আকারে আইন লঙ্ঘন। ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে মারপিট করা, এমনকি জোরপূর্বক বাড়িঘরে হামলা বা জিনিসপত্র জব্দের মতো ঘটনাও প্রায়ই ঘটে থাকে।
প্রভাবশালী এই সুদখোর চক্রের ভয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না। সামাজিক মর্যাদা ও নির্যাতনের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা নীরবে এই জুলুম সহ্য করে যান।
মাগুরা জেলার সিংহভাগ মানুষের মুখে মুখে ঘুল্লিয়া এলাকাটি “সুদখোরদের গ্রাম” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই এলাকার নাম পরিচিত হয়ে উঠলেও স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে ওঠার কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় আইনি লড়াইয়ে টিকতে পারেন না।
অবৈধ সুদের এই মরণফাঁদ থেকে ঘুল্লিয়া এলাকার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এবং এলাকার ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ এলাকার জনপ্রতিনিধি তথা সরকারের নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘুল্লিয়া এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ইসলামবিরোধী অবৈধ সুদের কারবার ও ফাঁকা স্ট্যাম্প বা চেক দিয়ে হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি।
সাধারণ মানুষকে সুদের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা এবং সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ বা সমবায় সমিতির সুবিধা পৌঁছে দেয়া খুবই জরুরী বলে মনে করছেন, এটিভি সংবাদ ডটকমের সম্পাদক এস এম জামান।
অর্থঋণ আইন এবং দণ্ডবিধির আওতায় ইসলাম পরিপন্থী অবৈধ সুদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে কেউ আর সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে না পারে।